পাঠের আসর ও বন্ধু আড্ডা

নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠের আসর
ছবি: বন্ধুসভা

রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছেন। এমন সময় হঠাৎ শুটিং ইউনিটের কয়েকজন আপনাকে ঘিরে ধরে বললেন, মূল চরিত্রে আপনাকেই মানাবে। এই মুহূর্তে অডিশন নেওয়া হবে। একটা মজার ডায়ালগ দিন তো। কী বলবেন?

হঠাৎ কল্পনার জগতে নিয়ে গিয়ে এ প্রশ্নটি ছুড়ে দেওয়া হলো বৈঠকে উপস্থিত বন্ধুদের কাছে। একে একে বন্ধুরা মজার মজার সব ডায়ালগ বলতে থাকেন। জমে ওঠে আড্ডা।

৫ জুলাই বিকেল ৪টায় প্রথম আলোর নোয়াখালী অফিসে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধুসভার পাঠের আসর ও ঈদ–পরবর্তী বৈঠক। এদিন নোয়াখালী বন্ধুসভার প্রতি মাসের প্রথম বৈঠকের নতুন সংযোজন ‘এ মাসে যাঁদের জন্ম’ উপস্থাপন করা হয়। জুলাই মাসে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই, বহুভাষাবিদ ও দার্শনিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই, সাংবাদিক, প্রবন্ধকার এবং লেখক অক্ষয়কুমার দত্ত ১৮২০ সালের ১৫ জুলাই, লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক এবং জনপ্রিয় মাসুদ রানা ধারাবাহিকের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই, বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই, বিখ্যাত সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও কাজী আনোয়ার হোসেনের জীবনী ও সৃষ্টি নিয়ে শুরু হয় পাঠের আসর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তাঁর ৮০ বছরের জীবনে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক, আইনজীবী, অনুবাদক, কবি, সাহিত্যিক, লোকবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও ভাষাসৈনিক। উদার মনোভাবের জন্য তিনি সব ধর্মের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রায় ২৪টি ভাষা জানতেন। বলা হয়ে থাকে বাংলা ভাষার পোস্টমর্টেম তাঁর দ্বারাই হয়েছে। বাঙালির প্রাণের স্পন্দন বাংলা ভাষার প্রতি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অবদান চিরস্মরণীয়। আলোচনায় উঠে আসে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পর্কে চমৎকার সব তথ্য। মোহাম্মদ ইব্রাহিম থেকে তাঁর মা শহীদ কারবালার চাঁদে তাঁর ছেলে গর্ভে এসেছে বলে নাম বদলে রাখেন শহীদুল্লাহ্। তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৪০। ৪১টি পাঠ্যবইও লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যের ওপর লিখিত প্রবন্ধ রয়েছে ৬০টির বেশি।

পাঠের আসর শেষে বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

পাঠের আসরে এরপর হাজির হন বাংলার প্রথম স্পাই থ্রিলারধর্মী সুপারহিরো চরিত্র মাসুদ রানা। মাসুদ রানা বাঙালির কাছে কেবল গোয়েন্দা কিংবা গুপ্তচরই নয়, কৈশোরের এক অনিন্দ্য চরিত্র। কাজী আনোয়ার হোসেন যেভাবে মাসুদ রানা নামকরণ করেছিলেন, তিনি যেভাবে লেখালেখির জগতে এলেন, আলোচনায় উঠে আসে সেসব তথ্যও। ছদ্মনাম লেখার ক্ষেত্রে ছদ্মনামে তিনি নিজের নাম কখনো দিয়েছেন বিদ্যুৎ মিত্র, আবার কখনো শামসুদ্দীন নওয়াব। লেখার রসদ জোগাড়ে ঘুরে বেড়াতেন নানা জায়গায়।

আলোচনায় উঠে আসা কয়েকটি বই নিয়ে পর্যালোচনা করেন নোয়াখালী বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জ্যানিসা আফরোজ। এ ছাড়া গান পরিবেশন করেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফরিনা ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আসিফ আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জ্যানিসা আফরোজ, ইমতিয়াজ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবদুর রহিম, অর্থ সম্পাদক উম্মে ফারহীন, পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক তাজকির হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফরিনা ইসলাম, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মো. শিমুল, বন্ধু নুসরাত জুঁই, মেজেরাজ ফয়সাল, নাহিদা ইতু, নাফিস আহমেদ, শাহরিয়ার সৈকত, আজিজুল ইসলাম, মো. শিহাবসহ অন্য বন্ধুরা।

সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা