‘তিতাস একটি নদীর নাম’ নিয়ে সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্র
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ শুধু একটি নদীর গল্প নয়; এটি তিতাস নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা মালো জেলে সম্প্রদায়ের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি, প্রেম-বিরহ, দুঃখ ও জীবনসংগ্রামের এক বাস্তবচিত্র।
অদ্বৈত মল্লবর্মণ বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক। তাঁর রচিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। তিতাস নদী ও নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন লেখক। ফলে উপন্যাসটিতে মালো সম্প্রদায়ের জীবনযাপন, সামাজিক বাস্তবতা এবং নানা সংকট অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভাকক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
তিতাস নদীকে কেন্দ্র করেই উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। মালো সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা ও জীবনযাত্রা নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মাছ ধরা, মাছ বিক্রি, নৌকা চালানোসহ তাদের জীবনের নানা কর্মকাণ্ড তিতাস নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। তাই তাদের কাছে তিতাস শুধু একটি নদী নয়, বরং জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রকৃতি ও মানুষের গভীর সম্পর্ক। নদীর পানির প্রবাহ, মাছের প্রাচুর্য, চর জাগা কিংবা নদীর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনেও পরিবর্তন আসে। তিতাস যখন ধীরে ধীরে সংকটের মুখে পড়ে, তখন মালো সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন ও জীবিকাতেও নেমে আসে দুর্দশা। নদীর সংকট যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয় একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের সংকটে।
এ উপন্যাসে শুধু নদী ও জেলেদের জীবন নয়; বরং প্রেম, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামও অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জীবনকে লেখক কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই বাস্তবতার আলোকে উপস্থাপন করেছেন।
বন্ধু আহসানউল্লাহ খান বলেন, ‘“তিতাস একটি নদীর নাম” পড়তে গিয়ে মনে হয়, আমরা একটি নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি জনগোষ্ঠীর জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখছি। নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং নদীর পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনে যে গভীর প্রভাব পড়ে, গল্পটি তারই এক অসাধারণ দলিল।’
বন্ধু অমিত দেবনাথ বলেন, উপন্যাসটির নামকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিতাস এখানে শুধু ভৌগোলিক কোনো নদীর নাম নয়; এটি মালো সম্প্রদায়ের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতীক। নামটি উপন্যাসটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফয়সাল আহমেদ, সমরজিৎ হালদার, আজিজ, সায়েম, অম্লান রায়, আরাফ, প্রাণেশ দাস, সাজন বিশ্বাস, অলখ সরকার, লৈরিং, বৃষ্টি দেসহ অনেকে।