বিভূতিভূষণের ‘আরণ্যক’ নিয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্র
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘আরণ্যক’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বনমায়া প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্র পরিচালনা করেন সভাপতি মুসাভভির সাকির। আলোচনায় অংশ নেন বন্ধু ত্বোয়া–হা, মোস্তফা মাহফুজ, সালমান ইসলাম, রুবায়েত রুবো, রিফাতুল ইসলাম, রিজভী আমিন, সিয়াম মোহাম্মদসহ অন্যরা। তাঁরা উপন্যাসের পেছনের গল্প ও লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর প্রকৃতি প্রেম নিয়েও আলোচনা করেন। এতে উঠে আসে, কীভাবে প্রকৃতি লেখকের জীবন ও সাহিত্যচিন্তায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বন্ধু ত্বোয়া–হা ‘আরণ্যক’–এর মূলভাব ও সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরে এর ভাবনা, অরণ্যকেন্দ্রিক জীবনবোধ ও মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।
সভাপতি মুসাভভির সাকির উপন্যাসের শেষের কয়েকটি লাইন পাঠ করে তা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষাংশের ভাব ও তাৎপর্য নিয়ে তাঁর আলোচনা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগায়।
বন্ধুরা জানান, ‘আরণ্যক’ পাঠ করতে গিয়ে তাঁদের মনে হয়েছে যেন নিজেরাই অরণ্যে হারিয়ে যাচ্ছেন। উপন্যাসটির প্রতিটি শব্দ ও ভাষাশৈলীর ভিন্নতা আলাদাভাবে মুগ্ধ করেছে। উপন্যাসটির বর্ণনা, অনুভব ও পরিবেশ নির্মাণ মনে এক গভীর আবেশ সৃষ্টি করেছে।
পাঠচক্র শেষে একটি বিশেষ পর্বে উপস্থিত বন্ধুদের লেখা কবিতাকে কেন্দ্র করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বন্ধু ত্বোয়া–হা ও সভাপতি মুসাভভির সাকিরের লেখা কবিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁদের কবিতার ভাব, ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ইতিবাচক মতামত দেন এবং কবিতাগুলোর অনুভূতি প্রবণতা ও গভীরতা প্রশংসিত হয়।
সাহিত্য, প্রকৃতি ও অনুভবের সম্মিলনে এই পাঠচক্র অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জাকিয়া লিমা। তিনি বলেন, ‘ড্যাফোডিল বন্ধুসভার প্রাণবন্ত পাঠচক্র দেখে শত ব্যস্ততার মধ্যেও উপস্থিত হয়েছি। আজকের মতো কার্যকর পাঠচক্র সামনে আরও হবে, সেই আশা করছি।’
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা