‘আমার মাটি আমার দায়, গাছ রোপণে বাঁচা যায়’ প্রতিপাদ্যে বৃক্ষরোপণ করেছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভা। গত ২৯ আগস্ট ইউনিভার্সিটির নতুন একাডেমিক ভবনের সামনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য গণেশ চন্দ্র শাহা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে ক্যাম্পাস একটি আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। একটি সাজানো–গোছানো সবুজ সতেজ পরিবেশই শিক্ষার্থীরা কাম্য করে। আমিও চাই ক্যাম্পাসটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ছেয়ে যাক। ক্যাম্পাসের যেসব জায়গায় ছায়ার স্বল্পতা ও বনায়ন নেই বললেই চলে, সেসব জায়গায় আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই ছোট ছোট সবুজ প্রাণগুলোই একসময় নানা রকম ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে, সে পরিমাণ গাছ কি আমরা রোপণ করতে পারছি? প্রতিবছর বৃক্ষ নিধনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ বন্যা, খরা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টিসহ নানা রকম মহামারি লেগেই আছে। প্রকৃতির রদবদল শুরু হয়ে গেছে। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে যে ব্যবহার করব, কালবিলম্বে সে লক্ষণ আমাদের ওপর ফিরিয়ে দেবেই। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে প্রকৃতিকে সবুজে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। প্রকৃতিকে সবুজে ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল বাছেত, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ফজলুল হক পলাশ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান তাহজীব-উল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, ডিআইইউ বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল মুনয়িম, সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসানসহ বন্ধুসভার অন্য বন্ধুরা।
এদিন বন্ধুরা ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি চারাগাছ রোপণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮০টি চারা বিতরণ করা হয়। যার মধ্যে ৯০টি আমগাছ, ৯৫টি কদমগাছ ও ৯৫টি কাঁঠালগাছের চারা ছিল।
ডিআইইউ বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল মুনয়িম বলেন, ‘বর্তমানে বৃক্ষের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জলবায়ুর ওপর সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রভাব। বিশ্ব পরিবেশ আজ বিপর্যস্ত। বৃক্ষনিধনের ফলে ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম যে এক নারকীয় হুমকির সম্মুখীন হবে, তা নিয়ে গোটা বিশ্ব আজ শঙ্কিত। এই বিপদ মোকাবিলার একমাত্র পথ বেশি বেশি বৃক্ষ রোপণ করা।’
সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বলেন, ‘আমরা যদি বৃক্ষরোপণ বিষয়ে সচেতন হই, নতুন প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সাবলীল পরিবেশ উপহার দিতে সক্ষম হব। আসুন বৃষ্টির এই সময়ে সবাই একটি হলেও গাছ লাগাই। তাহলে একটি হলেও প্রাণের সঞ্চার হবে এই ধরায়।’
বন্ধু, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভা