জাপানি লেখক তেতসুকো কুরোয়ানাগি রচিত ও চৈতী রহমান অনূদিত বই ‘তেত্তোচান’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে নোবিপ্রবি বন্ধুসভা। ২ মার্চ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বইটির নামের মধ্যেই শৈশবের কোমলতা লুকিয়ে আছে। আলোচনার শুরুতে উঠে আসে কৌতূহলী ও চঞ্চল এক ছোট্ট মেয়ের গল্প, যে আগের স্কুলে তার অদম্য কৌতূহল ও ভিন্ন আচরণের কারণে অবহেলার শিকার হলেও নতুন স্কুলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হতে দেখে।
আলোচনায় স্থান পায় জাপানের টোকিও শহরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে প্রতিষ্ঠিত ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘তোমায়ে গাকুয়েন’-এর কথা। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সোসাকু কোবাইয়াশি ছিলেন এক মানবিক ও সৃজনশীল চিন্তার অধিকারী শিক্ষাবিদ। তিনি প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে শিশুকে বোঝার জন্য গল্প ও আলাপচারিতাকে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষা ছিল আনন্দময়, অভিজ্ঞতাভিত্তিক এবং আত্মমর্যাদা বিকাশের মাধ্যম। পরিত্যক্ত রেলগাড়ির কামরায় গড়ে ওঠা শ্রেণিকক্ষ ও স্বাধীন পাঠপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছিল এক স্বপ্নময় শিক্ষাঙ্গন।
পাঠচক্রে আলোচকেরা বলেন, বইটি কেবল শিশুদের জন্য নয়; শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্যও এটি এক মূল্যবান দিকনির্দেশনা। একটি শিশুর ভিন্নতাকে গ্রহণ করা, তাকে ভালোবাসা ও উৎসাহ দেওয়া—এই ছোট ছোট মানবিক আচরণই তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। লেখকের নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত এ স্মৃতিকথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষা কেবল নিয়মের কাঠামো নয়; ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মধ্যেই এর প্রকৃত শক্তি নিহিত।
সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসীর বলেন, ‘তোত্তোচান’ আমাদের শেখায়—প্রতিটি শিশুই আলাদা এবং সম্ভাবনাময়। তাদের বুঝে নেওয়ার মধ্যেই একজন শিক্ষকের সার্থকতা।
পাঠচক্রের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক কাজী মুশফিকুর তাসিন, বন্ধু হুমাইরা বিনতে আফজল, নওশাদ হোসেন, তারিন, রবিন মিয়া, মুসতাসিন বিল্লাসহ অন্যরা।
সহসভাপতি, নোবিপ্রবি বন্ধুসভা