জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পক্ষ থেকে যখন ছোট্ট শিশু রিমনের হাতে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন পোশাক উপহার দেওয়া হয়, তখন তার চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল এক অন্য রকম উচ্ছ্বাস। বলে, ‘নতুন জামা পেয়ে আমি খুব খুশি।’
‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রিমনের মতো এমন ১৭ জন শিশুকে ঈদের নতুন পোশাক উপহার দিয়েছে জাবি বন্ধুসভা। ৫ মার্চ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এগুলো তুলে দেন বন্ধুরা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়, এটি মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চারও জায়গা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়, যা আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেন ভূঁইয়া এবং জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার এই মুহূর্তে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছিল তাদের নির্মল আনন্দ, অন্যদিকে উপস্থিত সবার মধ্যেও তৈরি হয় এক গভীর মানবিক আবেগ। বন্ধুসভার সদস্যরা বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
পোশাক বিতরণ শেষে উপস্থিত শিশু, অতিথি, বিভিন্ন ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও জাবি বন্ধুসভার বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার মাহফিল।
আয়োজনের আহ্বায়ক ছিলেন অরিত্র গুহ ও সহআহ্বায়ক অরুপা রহমান। তাঁরা বলেন, সবার ভালোবাসা ও সমর্থনই এমন মানবিক উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।
জাবি বন্ধুসভার সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান বলেন, ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রচার সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা