বই মানুষের জ্ঞান, কল্পনা ও অভিজ্ঞতার এক অনন্য ভান্ডার। এটি আমাদের অজানাকে জানতে এবং চিন্তার পরিধি প্রসারিত করতে সাহায্য করে। একটি ভালো বই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। এ জন্যই বই হচ্ছে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু। নতুন বইয়ের মলাটের ঘ্রাণ বই পড়ার ইচ্ছাকে অনেক বেশি ত্বরান্বিত করে। সেই টানে স্বাধীনতা বইমেলা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম–সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১০ এপ্রিল বিকেলে মেলা পরিদর্শনে যান বন্ধুসভার সদস্যরা।
চট্টগ্রামের প্রকাশনী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ঢাকার নানা প্রকাশনীর উপস্থিতি ছিল মেলায়। শুরুতে বন্ধুরা একত্র হন প্রথমা প্রকাশনের স্টলের সামনে। এরপর অন্যান্য স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন। প্রতিটি স্টলের সাজসজ্জায় ছিল নান্দনিকতা। কথাসাহিত্য, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, রাজনীতি, উপন্যাসসহ নানা বইয়ের সমাহার ছিল প্রতিটি স্টলে। পুরোনো বইয়ের পাশাপাশি নতুন বইয়ের আলাদা সেকশন ছিল চোখে পড়ার মতো। বন্ধুরা তাঁদের পছন্দের বই কিনে নেন।
বন্ধু সাজিয়া আফরিন বলেন, ‘নতুন বইয়ের ঘ্রাণ খুবই পছন্দের। প্রতিবছরই উদ্গ্রীব হয়ে বসে থাকি এই মেলার জন্য। এবারও ব্যতিক্রম নয়। প্রতিদিনই পড়াশোনার ফাঁকে সময় পেলেই ছুটে আসি বইমেলায়। খুঁজে বের করি নতুন বই, আর পছন্দ হলেই কিনে নিই।’
বন্ধুরা হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন স্টলে গিয়ে তাঁদের পছন্দের বই খুঁজে দেখেন, পড়েন, এবং নতুন বই সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। বন্ধু রুবায়েদ আলম বলেন, ইসমাইল আরমানের ‘নরক নিবাস’ বইটি খুবই ভালো। বন্ধু মামিয়া সুলতানা বইটি নিয়ে দু–চার লাইন পড়ে শোনান।
আরেকটি স্টলে বন্ধু জয় চক্রবর্তীর নজর পড়ে কবিতার বইয়ের দিকে। তাজরিয়া রশিদ তামিমের আবদার রাখতে গিয়ে দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী আবৃত্তি করে শোনালেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘অবনী বাড়ি আছো’ কবিতাটি।
মেলায় বিভিন্ন স্টলে ঘোরাঘুরি শেষে বন্ধুরা একসঙ্গে উপভোগ করেন বিভিন্ন স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান, নাচ ও কবিতা আবৃত্তি। শেষে চায়ের আড্ডার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে বইমেলা ভ্রমণের।
বইমেলা সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা