পটিয়ায় এতিম শিশুদের সঙ্গে বন্ধুদের ইফতার

এতিম শিশুদের নিয়ে পটিয়া বন্ধুসভার ইফতারছবি: বন্ধুসভা

রমজানের বিকেলটা ধীরে ধীরে নরম আলোয় ঢেকে যাচ্ছিল। দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে যেন এক অন্য রকম প্রশান্তির অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার নাম একসঙ্গে বসে ইফতার করা। সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে পটিয়া বন্ধুসভার বন্ধুরা পৌঁছে যান পৌর শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে, খানমোহনা রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত শাহ রশিদিয়া এতিমখানায়।

৯ মার্চ সেখানে এতিম শিশুদের সঙ্গে সৌহার্দ্যময় ইফতারে অংশ নেন বন্ধুরা। ইফতারের আয়োজন ছিল পটিয়ার বিখ্যাত আমিরি ওরশ বিরিয়ানি দিয়ে। চট্টগ্রামের মেজবানের মতোই জনপ্রিয় এই খাবারের সঙ্গে ছিল খেজুর, শরবত ও সালাদ। বিরিয়ানির প্যাকেটের পাশাপাশি বন্ধুরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন চিনি, ট্যাং ও লেবু—শিশুরা যেন নিজেরাই শরবত তৈরি করে আনন্দ পায়।

ইফতারের আগে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুসভার সদস্যদের জমে ওঠে প্রাণবন্ত কথোপকথন। এতিমখানার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সায়েম শরবত বানাতে বানাতে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করছিল, ‘আজকে ইফতারে কী এনেছেন?’ যখন তাঁকে বলা হলো ওরশ বিরিয়ানি; সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে ফুটে উঠল উচ্ছ্বাসভরা হাসি। আনন্দে আরেক শিশু বলল, ‘তাহলে আজ সবাই মজা করে ইফতার করব!’

অল্প সময়ের মধ্যেই সবাই ইফতারের জন্য বসে পড়ে। ছেলেরা এক পাশে, মেয়েরা আরেক পাশে। মিলাদ, আলোচনা ও মোনাজাতের মাধ্যমে সবার জন্য দোয়া করা হয়। বিশেষভাবে দোয়া করা হয় এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত উপদেষ্টা, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য, যাঁরা আর্থিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।

এতিম শিশুদের নিয়ে পটিয়া বন্ধুসভার ইফতার।

এতিমখানার বড় হুজুর মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, ‘আজ আমাদের এতিমখানার বাচ্চারা খুব খুশি হয়েছে। আপনাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দ পেয়েছে। আল্লাহ আপনাদের এই মানবিক উদ্যোগ কবুল করুন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবদুর রাজ্জাক, বন্ধু ফারুক আহমেদ, আইরিন সুলতানা, মোকারেম আলী, সুফি মোহাম্মদ রেজা, তানাস চৌধুরী, মাহবুবা সামিয়া, আবু নয়ন, সাইদ হোসেন, নাঈমা আকতার, রাশেদুল্লাহ আলমদার, খায়রুল মোস্তফা, হুমাইরা জান্নাত, মিফতাহুল জান্নাত, মুন শীল, আনিসা তাহসিনসহ আরও অনেকে।

সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা