বিশ্ব বই দিবসে কিশোরগঞ্জে পাঠচর্চার উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে পছন্দের বই খোঁজায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরাছবি: প্রথম আলো

প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে বই দিবস পালিত হয়। ১৯৯৫ সালে ইউনেসকো এই দিবসের সূচনা করে, যার উদ্দেশ্য পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, বই প্রকাশনা শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া ও লেখক–সাহিত্যিকদের সম্মান জানানো।

দিবসটি ঘিরে গত বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। নীরবতার ভেতরেও যেন বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে প্রাণচাঞ্চল্য। শিশু–কিশোর ও তরুণদের উপস্থিতিতে লাইব্রেরি হয়ে ওঠে জ্ঞানচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। কেউ গল্পে ডুবে আছে, কেউ পাঠ্যবইয়ের পাতায় মনোযোগী—সব মিলিয়ে বইয়ের প্রতি আগ্রহের এক আশাব্যঞ্জক চিত্র ফুটে ওঠে।

ছবি: প্রথম আলো

আজিম উদ্দীন উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির ভূঁইয়া বলে, ‘প্রতিদিন বিকেলে এখানে বই পড়ি। বই পড়লে নতুন বিষয় জানা যায়, যা পড়াশোনায় অনেক কাজে লাগে।’ তার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর নিয়মিত লাইব্রেরিমুখী হওয়া এই অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।

বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা একটি বিশেষ বই পড়া কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বন্ধুসভার সদস্যরা একত্রে লাইব্রেরিতে বসে বই পড়েন এবং পাঠের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এ আয়োজন শুধু অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, লাইব্রেরিতে উপস্থিত অন্যদের মধ্যেও বই পড়ার প্রতি আগ্রহ জাগাতে ভূমিকা রাখে।

ছবি: প্রথম আলো

কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির কারণে তরুণদের বই পড়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে সচেতন উদ্যোগ নিলে আবারও তাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ব বই দিবসকে অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বই মানুষকে চিন্তাশীল করে তোলে এবং একটি ইতিবাচক ও সচেতন জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বই আমাদের নতুন নতুন বিষয় শেখায়। বই আমাদের পরম বন্ধু।’

সাংস্কৃতিক সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা