‘এই দেশ খুনি ও ধর্ষকদের অভয়ারণ্য হতে পারে না। তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।’
শিশু ও নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ আহ্বান জানান বক্তারা। ২২ মে বিকেলে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে লালমনিরহাট বন্ধুসভা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লালমনিরহাট জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবু হাসনাত রানা, স্থানীয় সাপ্তাহিক আলোর মনির সম্পাদক মাসুদ রানা রাশেদ, প্রথম আলোর লালমনিরহাট প্রতিনিধি আবদুর রব সুজন, সাংস্কৃতিক কর্মী রক্তিম মিলন ও অলোক অধিকারী এবং লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোমায়রা হিমু প্রমুখ।
সহকারী অধ্যাপক আবু হাসনাত রানা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ স্বাধীন বাংলাদেশ খুনি ও ধর্ষকদের অভয়ারণ্য হতে পারে না, হতে দেওয়া হবে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনকে আরও যুগোপযোগী, আধুনিক এবং কঠোর করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার করে খুনি ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
সাংস্কৃতিক কর্মী অলোক অধিকারী কর্মসূচিতে তাঁর সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা ঋধিতা অধিকারীকে নিয়ে আসেন। তাকে কোলে নিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক পিতা–মাতার কাছে তাঁর সন্তানের নিরাপদ বেড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় চাওয়া; সেটা যদি হুমকির মুখে পড়ে, তবে জীবনে নরক যন্ত্রণা নেমে আসে। যাদের কারণে এমন সমস্যা হয় বা হবে, তাদের জীবনের কোনো মানে নেই। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
সাংস্কৃতিক কর্মী রক্তিম মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশ সব শিশুর নিরাপদ আশ্রয় হোক। একে যারা বিনষ্ট করে বা করবে, তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে।’
সাংবাদিক মাসুদ রানা রাশেদ বলেন, ‘দেশটা যেন কবি সুকান্তের ভাষায় ‘শিশুদের বাসযোগ্য করে যাবো আমি’ এই মন্ত্রে সবাইকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।’
কর্মসূচিতে লালমনিরহাট বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রণি কোরাইশি, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ববিতা সুলতানা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক বর্ষা রানী ও সদস্য হাফিজা মিমসহ অন্য বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি, লালমনিরহাট বন্ধুসভা