যুক্তি, জ্ঞান আর মানবিক বোধের সম্মিলনে মুখর হয়ে ওঠে ভৈরব পৌর শহরের ব্লু বার্ড স্কুলের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণ। ১৭ ফেব্রুয়ারি সেখানে ভৈরব বন্ধুসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব। এতে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে তৈরি হয় বুদ্ধিবৃত্তিক এক উৎসবের আবহ।
ফাইনাল পর্বে বিতর্কে মুখোমুখি হয় ব্লু বার্ড স্কুল ও ভৈরব আইডিয়াল স্কুল; একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ফাইনাল। অতিথিরা বলেন, ‘তরুণদের জন্য বন্ধুসভা এখন দেশের বড় মঞ্চের একটি। এখান থেকে সাংগঠনিক শিক্ষা নিয়ে বন্ধুরা দেশপ্রেমের ব্রত হচ্ছেন, মানবিক হচ্ছেন। বন্ধুসভার মতো সংগঠন তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলছে।’
প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের সাবলীল উপস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাসী অংশগ্রহণ দর্শকদের মুগ্ধ করে, আর পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ, নাট্য সংগঠক মতিউর রহমান সাগর, শিক্ষক নেতা মাসুম বিল্লাহ, আসাদুজ্জামান বাবলু, মাহফুজ আহমেদ, হিমেল আহমেদ, ভৈরব বন্ধুসভার উপদেষ্টা ওয়াহিদা আমিন, আলাল উদ্দিন, জনি আলম, সুমাইয়া হামিদ প্রমুখ।
সাধারণ জ্ঞান পর্বটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আফিফুল ইসলাম। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি বিভাগে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি ছিল ভিজ্যুয়াল পর্ব। টানটান উত্তেজনায় কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে মোট ৯ জন বিজয়ী হয়।
তারা হলো গাজীপুর শাহিন ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষার্থী বুশরা বিনতে, ব্লু বার্ড স্কুলের জাহিদ মাহমুদ ও নিলয় মোল্লা, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয়ের সাদিয়া আক্তার ও রুবাইয়াত শফিক, ভৈরব আইডিয়াল স্কুলের সুমাইয়া আক্তার ও নাফিসা তাবাসসুম, কালিপুর হাইস্কুলের তানভীর আহমেদ এবং ভৈরব উদয়ন স্কুলের আরাফ চৌধুরী। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট।
সাধারণ জ্ঞানের পর অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘মানবিক মূল্যবোধের অভাব বর্তমান সমাজের অধিকাংশ সমস্যার মূল কারণ’।
প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেয় ভৈরব আইডিয়াল স্কুলের কাজী মুসকান, সুজন আনিকা ও সাদিয়া জাহান ভূঁইয়া। বিপক্ষ দলে ছিল ব্লু বার্ড স্কুলের মাটি বিনতে মাসুদ, ফারহানা আফরোজও তায়িবা জাহান।
আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্ব শুরুর আগ থেকে ব্লু বার্ড স্কুল প্রাঙ্গণে দর্শকসারির সব কটি আসন পূর্ণ হয়ে যায়। যুক্তিতর্কের লড়াইয়ে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠায় বিতার্কিকেরা ছিল বদ্ধপরিকর। সাবলীল ভাষায় তাদের উপস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ভৈরব আইডিয়াল স্কুল, রানার্সআপ ব্লু বার্ড স্কুল। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় পক্ষ দলের সুজন আনিকা। উভয় দলকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ব্যক্তিগত ক্রেস্ট।
বিতর্ক পর্বটি সঞ্চালনা করেন ভৈরব বন্ধুসভার কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াংকা। বিতর্কে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক রাশেদ আলম চৌধুরী, সানজিদা সাদ ও সাজ্জাদুর রহমান।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক জোনায়েদ বোস্তামী, জিল্লুর রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাহবুবা রহমান।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা সুমন মোল্লা বলেন, ভৈরবে বিতর্কে নতুন জোয়ার এনেছে বন্ধুসভা। পাঁচ বছর ধরে নিয়মিতভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে ভৈরব বন্ধুসভা। তিন বছর ধরে চলছে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সমাজে নানা রকমের তর্কের মধ্যে বিতর্ক হলো তর্কের শৈল্পিক রূপ। এই তর্ক অন্যের যুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়। যাঁরা বিতর্ক করেন, তাঁরা মন্দ কাজ করতে পারেন না।’ সর্বত্র বিতর্কচর্চা বাড়ানোর প্রতি জোর দেন তিনি।
ভৈরব বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু ও সাধারণ সম্পাদক আনাস খান বলেন, বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞান ভৈরব বন্ধুসভার নিয়মিত আয়োজনগুলোর মধ্যে একটি। এবার সব প্রতিষ্ঠানের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।
বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞানের ফাইনাল ভৈরব বন্ধুসভার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার হয়। এতে সহযোগিতা করেন বন্ধু নাহিদ হোসাইন ও মাজহারুল ইফতি। আয়োজন সহযোগী হিসেবে ছিল আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হসপিটাল।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা