নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে ভালো মানুষের খুবই প্রয়োজন। ভালো মানুষ হতে হলে মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থ থেকে দূরে থাকতে হবে। জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের শুধু সংবর্ধনা বা অনুপ্রেরণা দিলে চলবে না। পাশাপাশি যারা ভালো ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও অনুপ্রেরণা দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আমন্ত্রিত অতিথি ও গুণীজনেরা। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম আলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসবে সহযোগী হিসেবে ছিল ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা।
সকাল সাড়ে আটটার আগে থেকেই ভেন্যুতে হাজির হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। কেউ বন্ধুকে দেখে জড়িয়ে ধরছিল, কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছে, কেউ নতুন বন্ধুর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। শরতের স্নিগ্ধতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস মিলে উৎসবস্থল পরিণত হয় এক অন্য রকম মিলনমেলায়।
সকাল ১০টায় বন্ধুসভার সদস্য শান্ত রায় ও আদিবা তালুকদারের সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রথম আলোর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মজিবর রহমান খান উপস্থিত শিক্ষার্থী, তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ইস্রাফিল, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান, প্রথম আলোর রংপুরের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল হক এবং জাতীয় নারী হকি দলের খেলোয়াড় রিয়া মনি। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও বর্ডার গার্ড উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও আল হাসনা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থী আফিফা হাসনাত তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে। অভিভাবকদের মধ্যে শহীদ জাকিরুল হক চৌধুরী বক্তব্য দেন।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান এই প্রতিযোগিতার সময়ে তোমাকে যদি প্রতিযোগিতায় টিকতে হয়, তাহলে নিজেকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গড়তে হবে। সেই মানে নিজেকে গড়তে হলে তোমাদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থ থেকে দূরে থাকতে হবে। ভালো মানুষ হতে হবে।’
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ইস্রাফিল কৃতী শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘তোমরা যদি মনে করো ভালো ফল করেছ, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ফলাফল না–ও হতে পারে। এই ফলাফলে মনে আত্মতৃপ্তি আনলে চলবে না। সামনের পথ বড় কঠিন। এই পথ পাড়ি দিতে গেলে তোমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। এখন প্রতিযোগিতা শুধু নিজের এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিযোগিতা করতে হবে গোটা দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।’
যারা জিপিএ–৫ পায়নি, তাদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে মো. ইস্রাফিল বলেন, ‘যারা জিপিএ–৫ পায়নি, তাদের অবজ্ঞা করলে চলবে না। মনে প্রত্যয় থাকলে তোমরাও জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের চেয়েও ভালো ফল করতে পারবে।’
জাতীয় নারী হকি দলের খেলোয়াড় রিয়া মনি বলেন, ‘খেলার মাঠে আমরা যখন জয়ী হই, তখন বুকটা গর্বে ভরে যায়। আমরা দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেব। তোমাদেরও দেশকে ভালো কিছু দেওয়ার শপথ করতে হবে।’
প্রথম আলোর রংপুরের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল হক বলেন, ‘তোমাদের শুধু জিপিএ–৫ পেলেই হবে না। দেশের জন্য কথা বলতে হবে। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে হবে। মনে রাখবে, তোমরা যারা ভালো ফল করেছ, প্রত্যেকেই বাংলাদেশ।’
জিপিএ–৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব।