বাংলা সাহিত্যে এমন খুব কম লেখক আছেন, যাঁদের বই প্রকাশের দিন পাঠকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। হুমায়ূন আহমেদ সেই বিরল লেখকদের একজন। তিনি শুধু একজন ঔপন্যাসিক ছিলেন না; ছিলেন মানুষের মনের ভাষা বোঝার অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এক কথাশিল্পী। তাঁর লেখায় যেমন ছিল হাসি, তেমনি ছিল বিষাদ; যেমন ছিল প্রেম, তেমনি ছিল জীবনের কঠিন বাস্তবতা।
হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকে আলাদা করেছে তাঁর ভাষা। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, সাহিত্যকে দুর্বোধ্য হতে হবে না। সহজ ভাষায়ও গভীর জীবনবোধ প্রকাশ করা যায়। তাঁর উপন্যাস পড়তে গিয়ে পাঠক কখনো নিজের পরিবারকে খুঁজে পান, কখনো একাকিত্বকে, আবার কখনো নিজের স্বপ্নকে।
হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে গোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরে বন্ধুদের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। ১ আগস্ট গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠ আলোচনায় বন্ধুরা বলেন, হুমায়ূন আহমেদের লেখায় তাঁর বেড়ে ওঠা এবং পারিবারিক ছাপ দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। জোছনা ও জননীর গল্প উপন্যাসে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বাবার অবদান এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামকে। তাঁর সৃষ্টি করা চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হিমু সমাজের প্রচলিত নিয়মকে প্রশ্ন করতে শেখায়। মিসির আলি যুক্তি ও বিজ্ঞানের আলোয় রহস্যের সমাধান খোঁজেন। এসব চরিত্র শুধু গল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা পাঠকের চিন্তা ও জীবনবোধের অংশ হয়ে উঠেছে।
হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়েও তাঁর বই পড়ে তরুণেরা আনন্দ পান, আবেগ খুঁজে পান এবং নিজের জীবনের সঙ্গে গল্পের মিল খুঁজে পান। এটাই একজন লেখকের প্রকৃত সাফল্য—সময় বদলালেও তাঁর লেখা পুরোনো হয়ে যায় না।
আজকের দিনে যখন বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, তখন হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য নতুন পাঠক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর বই পাঠককে শুধু বিনোদন দেয় না; বরং মানুষকে ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায় এবং মানবিক হতে শেখায়।
গোবিপ্রবি বন্ধুসভার এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন গোবিপ্রবি সাহিত্য সংসদের সভাপতি আহসানুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ। বন্ধুসভার সঙ্গে মিলে সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বন্ধু, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা