‘নতুন ধানে নতুন প্রাণে, চলো মাতি পিঠার ঘ্রাণে’ স্লোগানে শীতের আবহে দেশীয় সংস্কৃতির রঙে ১ ফেব্রুয়ারি পিঠা উৎসবের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট। দিনব্যাপী এই উৎসবে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য, খাদ্যসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনধারাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়।
উৎসবে জোটের অন্যতম সংগঠন হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় চবি বন্ধুসভা। এ ছাড়া অঙ্গন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চ, লোকজ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, আমন্ত্রিত সংগঠন ভিন্নষড়জসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজ নিজ স্টল ও পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকার ঐতিহ্যবাহী পিঠা নিয়ে অংশ নেন। আদিবাসী শিক্ষার্থীদের তৈরি ভিন্ন স্বাদের পিঠা ছিল দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
প্রতিটি স্টলেই ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। চবি বন্ধুসভার স্টলে ২০ থেকে ২৫ ধরনের পিঠা স্থান পায়। পুলি পিঠা, পাকন পিঠা, দুধ চিতই, ঝাল পিঠা, ডিম পিঠা, বিন্নি চালের পিঠা, কলা পিঠা, ক্ষীরের পাটিসাপটা, নারকেলের পাটিসাপটা, জামাই পিঠা, গোলাপ পিঠা, হাতঝাড়া, হাতঝালি পিঠাসহ নানা রকমের পিঠা পরিবেশন করা হয়। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্লাস্টিক এড়িয়ে কলাপাতায় পিঠা পরিবেশন করা হয়। স্টল সাজানো হয় গ্রামীণ বাঙালি ধাঁচে।
পিঠার পাশাপাশি উৎসবজুড়ে ছিল নানা দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। লোকসংগীত, আবৃত্তি, দলীয় গান ও নৃত্য পরিবেশনায় তুলে ধরা হয় বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতি। সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
চবি বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক ইজাজ বিন হুসাইন বলেন, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীরা ঘরের তৈরি পিঠার স্বাদ পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমন আয়োজন আমাদের লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে চেনাতে সাহায্য করে।’
অর্থ সম্পাদক রিপা সাহা বলেন, ‘পিঠা উৎসব শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি প্রয়াস। বন্ধুসভার বন্ধুরা নিজের হাতে পিঠা তৈরি করে এনেছে, সবাই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিয়েছে। সারা দিন স্টলে কাজ করা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া আমাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’
আয়োজকদের মতে, এমন দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা আরও বিস্তৃত হবে।
সাধারণ সম্পাদক, চবি বন্ধুসভা