জন্মের এক মাস আগে মারা যান বাবা, ২২ দিন বয়সে হারিয়েছে মাকে। তখন থেকে মা হলেন নানি আর বাবা হলেন নানা। এই গল্প নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর বেরুবন্দ গ্রামের আরিফ ইসলামের (৯)।
২৬ অক্টোবর বিকেলে ওই গ্রামে আরিফ ইসলামের নানার বাড়ি যান নীলফামারী বন্ধুসভার বন্ধুরা। তার নানা দেলোয়ার ইসলাম একজন বর্গা চাষি। নানি সাহিদা বেগম গৃহিণী। বাড়িতে ঘরের ভাঙা চাটাইয়ের বেড়ায় পরিবারটির দৈন্য স্পষ্ট।
আরিফ ইসলামের নানি সাহিদা বেগম বলেন, ‘জন্মের এক মাস আগত ওর বাপ মারা গেইছে। ২২ দিনের ছোয়াক থুইয়া ওর মাও পালাইছে। হামরা ওর মায়ের কুনো খবর জানি না। বাঁচি আছে না মরি গেইছে তাও জানি না। এখন ওয় মোক মাও কয়, ওর নানাক বাপ কয়। হামরায় ওর বাপ–মাও। কিন্তু হামারো সংসার চলে না।’
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার এতিম ওই শিশুকে একটি ছাগল উপহার দেওয়া হয়। ছাগলটি কিনতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়।
ছাগলটি হাতে পেয়ে খুশিতে আরিফ ইসলাম বলে, ‘আমি ব্র্যাক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। ছাগলটি পালন করে এর বাচ্চা হবে। ওই বাচ্চা বিক্রি করে আমার পড়ার খরচ চালাব।’
আরিফ ইসলামের নানা দেলোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমার জামাই খুব কম বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। জামাই মারা যাওয়ার এক মাস পর আরিফের জন্ম হয়। সে তার বাবাকে দেখে নাই। জামাই মারা যাওয়ার পর ২২ দিনের এই বাচ্চাটাকে রেখে তার মা দেলোয়ারা নিরুদ্দেশ হয়। এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। ছেলেটা আমাকে বাবা ডাকে, ওর নানিকে মা। তার জন্মনিবন্ধনেও আমরাই তার মা–বাবা।’
দেলোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যে ছাগলটা দিলেন, এটি অল্প দিনের মধ্যে বাচ্চা দেবে। আমরা এটির যত্ন নেব, যাতে এটাই তার ভাগ্য বদলাতে পারে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম, সাবেক সভাপতি তাহমিন হক, নির্বাহী সদস্য সাদ্দাম হোসেন, প্রথম আলো নীলফামারী প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী বন্ধুভার সভাপতি রুবি বানু, প্রচার সম্পাদক রইসুল ইসলাম প্রমুখ।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা এ এস এম সফিকুল আলম, প্রকৌশলী জুলফিকার আলী ও নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম।