পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ‘পরিবেশ বন্ধু: কানেক্টিং রিসাইকেলিং অ্যান্ড ট্র্যাডিশন’ শিরোনামে ১১, ১২ ও ১৩ অক্টোবর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’–এর অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম করেন বন্ধুরা। উদ্দেশ্য, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতাকে বাস্তব ও কার্যকর সামাজিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়া। আয়োজনে সহযোগিতা করে ডিআইইউ সাসটেইনেবিলিটি উইং।
কমিউনিটি ক্লিনিং ড্রাইভ
১১ অক্টোবর প্রথম ধাপে কমিউনিটি ক্লিনিং ড্রাইভ আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন রোদেলা ক্যাফের সামনে থাকা কয়েকটি ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করেন বন্ধুরা।
বন্ধুসভার সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী রাজু সোলাইমানের নেতৃত্বে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এ কাজে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন অন্যান্য স্থানেও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সবাইকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা বা ডাস্টবিন ব্যবহারে সচেতন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ আল্লাইয়ার। তিনি বর্জ্য রাখার জন্য ড্যাফোডিল বন্ধুসভার মাধ্যমে বড় ময়লার ড্রাম স্থাপনের আশ্বাস দেন।
ড্যাফোডিল বন্ধুসভার কনভেনর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সহকারী পরিচালক আনোয়ার হাবিব কাজল বলেন, ‘ড্যাফোডিল বন্ধুসভা বিভিন্ন ভালো কাজ করতেই থাকে; তার মধ্যে এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ। আজ বন্ধুদের সঙ্গে আমিও একজন পরিবেশ বন্ধু।’
এ ছাড়া সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর দীলজেব কবির, সাসটেইনেবিলিটি উইংয়ের সাসটেইনেবিলিটি অফিসার ইব্রাহিম হোসেইন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং অফিসার মুহাম্মদ আবিদ উল্লাহ। তাঁরাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন।
বেলা দুইটার পর বন্ধুরা রোদেলা ক্যাফে ও আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা নিয়ে যান। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের স্থান ও এলাকা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে আমরা খুব খুশি। আপনারা যে পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এখন এই জায়গা পরিষ্কার রাখার দায় আমাদের। তবে আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া, আপনারা এই সচেতনতার উদ্যোগ যেন কয় দিন পরপর করেন।’
জবাবে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সভাপতি আশ্বাস দেন, কিছুদিন পর আবারও এই পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক কাজ করা হবে। এ ছাড়া ক্যাম্পেইন চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক এ এইচ এম শাহরিয়ার পারভেজ ও সহকারী অধ্যাপক খালেদ সোহেল। তাঁরা বন্ধুসভার ভালো কাজের প্রশংসা করেন।
কালেক্টিং ওয়েস্ট অ্যান্ড প্রমোটিং রিসাইকেলিং বুথ
দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১২ ও ১৩ অক্টোবর। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেউ ৫–১০টি প্লাস্টিক বোতল জমা দিলে তাঁকে একটি হাওয়াই মিঠাই অথবা একটি কুলফি মালাই উপহার দেওয়া হয়। ছিল প্লাস্টিকের বোতল জমা দিয়ে গেমস খেলে নানা উপহার জিতে নেওয়ার সুযোগ।
এ ছাড়া নিজেদের খারাপ স্মৃতি বা ঘটনা ছোট কাগজে লিখে ওয়েস্ট প্লাস্টিক বোতলে ভরে সেটা ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য ছিল ফটো বুথ। সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বোতলগুলো পাঠানো হয়েছে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে।
এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়ে। উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার কো-কনভেনর আহসানউল্লাহ সজীব। এ ছাড়া সহযোগিতা করেন সাসটেইনেবিলিটি উইংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটরিচ ও অ্যাডভোকেসি অফিসার কে এম দদী আল-শামস শুভ।
১৩ অক্টোবর বন্ধুসভার এই কার্যক্রম পরিদর্শন ও প্রশংসা করেন বাংলা মিনিস্ট্রিস ওয়ার্ল্ডওয়াইডের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড ডিকক, তাঁর সহধর্মিণী ন্যান ডিকক ও ন্যাশনাল ডিরেক্টর ম্যাথিউ রয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব দ্য স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মিজানুর রহমান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার চন্দন হায়দার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার তাহমিদ চৌধুরী।
তিন দিনের এ উদ্যোগে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা প্রায় ৮০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে। এগুলো এরই মধ্যে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কর্মসূচি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অনিক ভূষণ সাহা ও অর্থ সম্পাদক রিজভী আমিন।
সভাপতি, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা