মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা আনন্দের ও গর্বের

শিশুদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বন্ধুসভার ইফতারছবি: বন্ধুসভা

রমজানের সৌহার্দ্য, ভাগাভাগি আর ভালোবাসার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বন্ধুসভা আয়োজন করে ‘ইফতার মাহফিল ও সহমর্মিতার ঈদ’। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় হাজারীবাগ এলাকার প্রান্তিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ৩৫ জন এতিম ও পথশিশু।

ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামটি যেন সেদিন হয়ে উঠেছিল এক ছোট্ট উৎসবের জায়গা। শিশুরা এসেছিল উচ্ছ্বাস নিয়ে, আর বন্ধুসভার সদস্যরা তাদের স্বাগত জানান আন্তরিকতা ও ভালোবাসায়। সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করে, কেউ কারও আলাদা নয়, সবাই যেন একই পরিবারের সদস্য।

পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে শিশুদের খাতা ও কলম উপহার দেওয়া হয়
ছবি: বন্ধুসভা

শুধু ইফতার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বন্ধুরা, ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেওয়া হয় সামান্য সালামি। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে খাতা ও কলম উপহার দেওয়া হয়।

বন্ধুরা জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের মধ্যে ভালোবাসা, সম্মান ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা; যাতে তারা নিজেদের সমাজের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারে এবং শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শেখে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন বন্ধুসভার সদস্য, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অ্যালামনাইরা।

ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘বন্ধুসভা ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সহমর্মিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের।’ ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমে পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

শিশুরা এসেছিল উচ্ছ্বাস নিয়ে, আর বন্ধুসভার সদস্যরা তাদের স্বাগত জানান আন্তরিকতা ও ভালোবাসায়
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধুসভার সভাপতি মহিব উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আমরা আজ এই বাচ্চাগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে এটিই আমাদের শেষ নয়; এর ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শিশুদের ঈদের আনন্দ দিগুণ করতে আরও কিছু আয়োজনের চিন্তাভাবনা আছে।’

কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন ঢাবি লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বন্ধুসভার সহসভাপতি বহ্নি দে ও ওমর আবদুল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা নিগার সুলতানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৃন্ময়ী রায় ও অর্ণব হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোন্তাসীর চৌধুরী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুমতাহিনা শারমিন, অর্থ সম্পাদক সাব্বির রহমান, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আল মাহিম, প্রচার সম্পাদক রাফিয়া অধিরা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দোলা রানী কুণ্ডু, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক প্রত্যাশা লাবণী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রাসনা হাসান, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক শাহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক রানা হোসেন, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক জয় পাল, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সাকিব আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক প্রীতিলতা সরকার, ম্যাগাজিন সম্পাদক কানিজ ফাতিমা, বইমেলা সম্পাদক জাবির আল হাসান, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক সাদিয়া রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সবুর আহমেদ ও মো. জাওয়াদ হাসান।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ঢাবি লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বন্ধুসভা