জুলাই ২০২৪: একটি বিস্ময়, একটি বিদ্রোহ, একটি ভোর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভার দুই বন্ধুছবি: উদয় সরকার

সেদিন ছিল ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। সকালটা ছিল অস্বাভাবিক রকমের নিস্তব্ধ। পাখির ডাক ছিল, কিন্তু মানুষের মুখে যেন শব্দ হারিয়ে গিয়েছিল। চারদিকে শুধু উৎকণ্ঠা। ইন্টারনেট মাঝেমধ্যেই বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল, মোবাইল সিগন্যালও দুর্বল। কেউ বুঝতে পারছিল না কী হতে যাচ্ছে। আমরা যাঁরা রাজপথে ছিলাম, তাঁরা জানতাম—এই নিস্তব্ধতা কিছু একটা বড় বিস্ফোরণের পূর্বাভাস। শুধু ঢাকায় নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মানুষ ছুটে এসেছিল। সিলেটও ব্যতিক্রম নয়।

সে এক বিদ্রোহের সময়। কেউ আর ভয় পাচ্ছে না। গুলির শব্দেও মানুষ পিছু হটেনি। বরং গুলি চালানো হলে স্লোগান আরও জোরালো হয়ে উঠছিল। তখন মনে মনে চিন্তা করলাম, যা হওয়ার হবে, আর কী করার। কথাগুলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপ্লবী মাজেদ আহমেদ চৌধুরীর।

৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ের আঙিনায় মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা আয়োজন করে জুলাই স্মৃতিচারণামূলক আড্ডা। প্রথমেই জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন বন্ধুরা। প্রশিক্ষণ সম্পাদক চৌধুরী নাফিসার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক উদয় সরকারসহ অন্য বন্ধুরা।

মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: উদয় সরকার

বন্ধু মাহি চৌধুরী ছিলেন নারীদের মধ্যে ফ্রন্ট লাইনে থাকা একজন বিপ্লবী। তিনি বিজয়ের দিনের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘তখন বিজয়ের উল্লাস। কিন্তু আমি কাঁদছিলাম। স্বৈরাচারের অত্যাচার থেকে আমরা মুক্তি পেলাম। এই বিজয়ের পেছনে কত প্রাণ, কত মা-বোনের চোখের জল, কত ভাইয়ের রক্ত মিশে আছে।’

মাহি চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই ২০২৪ ছিল একটি গণ-অভ্যুত্থান। অনেকে এটাকে “দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ” বলেছে, কেউ বলেছে “ডিজিটাল বিদ্রোহ’। কিন্তু আমার কাছে, এটা ছিল “একটি জনগণের ঘুম ভাঙা ভোর” যেখানে আতঙ্ককে জয় করে মানুষ নিজের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছিল। আজ এক বছর পর সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে আমারও হাত কাঁপে। অনেক বন্ধু হারিয়েছি, অনেক স্বপ্ন গড়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি—বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠলে, তাকে আর কেউ থামাতে পারে না।

সভাপতি, মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা