শহীদুল্লা কায়সার রচিত ‘সারেং বৌ’ মূলত প্রতিকূল সমাজব্যবস্থায় একজন নারীর একাকী টিকে থাকার বীরত্বগাথা। সব সামাজিক কুসংস্কার, লাঞ্ছনা এবং শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একজন সারেং-পত্নীর নৈতিক জয় ও ভালোবাসার প্রতি অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল এই উপন্যাস।
বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে দিনাজপুর বন্ধুসভা। ১৬ জুন বিকেলে প্রথম আলো দিনাজপুর অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘সারেং বৌ’ বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী ও বাস্তববাদী উপন্যাস। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনসংগ্রাম, গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ক্ষমতার দাপট এবং সর্বোপরি একজন নারীর আত্মমর্যাদা ও সতীত্ব রক্ষার লড়াই এই উপন্যাসের মূলভাব।
মূল চরিত্র নবিতন। তার স্বামী কদম সারেং জাহাজে চাকরি করে দূর সাগরে চলে যাওয়ার পর, দীর্ঘ সময় সে একা গ্রামীণ সমাজের নানামুখী বৈরিতা ও কুৎসিত কামনার মুখোমুখি হয়। গ্রামীণ প্রভাবশালী ও লম্পট মাতব্বরদের কুপ্রস্তাব এবং সামাজিক চাপকে উপেক্ষা করে নবিতন যেভাবে নিজের সতীত্ব, সম্মান ও সংসার আগলে রেখেছে, তা নারীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও নৈতিক দৃঢ়তার প্রতীক। তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং মাতব্বরদের শোষণের নগ্ন রূপ এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান বিষয়। কদম সারেং নিখোঁজ হওয়ার পর সমাজ ও ধর্মের দোহাই দিয়ে নবিতনকে কোণঠাসা করার এবং তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে গ্রাস করার যে অপচেষ্টা চলে, তা তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অন্ধকার দিকটিকে উন্মোচিত করে।
সভাপতি শবনম মুস্তারিন বলেন, ‘নিয়মিত এ ধরনের পাঠচক্র জীবনকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখায় এবং বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে সাহায্য করে।’
পাঠচক্র শেষে বন্ধুদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য বন্ধুরা।
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা