জাবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’
গ্রামবাংলার শোষিত মানুষের নীরব আর্তনাদ, সামন্ততান্ত্রিক সমাজের নির্মম শোষণ এবং এক হতদরিদ্র কৃষক ও তার অবলা প্রাণীর মধ্যকার অকৃত্রিম ভালোবাসার ট্র্যাজিক রূপ ফুটে উঠেছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গল্প ‘মহেশ’-এ। তীব্র অনাহার, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যে গফুর ও তার পোষা বলদ মহেশের আত্মিক বন্ধন বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।
গত ৩১ আগস্ট বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্রে আলোচনা হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘মহেশ’ নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ১০ নম্বর কক্ষে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। গ্রন্থআশ্রমের সহযোগিতায় আয়োজনে মূল আলোচক ছিলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ।
শুরুতে আলোচক মারিয়া মুরাদ গল্পের প্রেক্ষাপট, তৎকালীন জমিদার ও সমাজপতিদের শোষণ-নিপীড়ন এবং দরিদ্র কৃষক গফুরের নিঃস্ব জীবনের হাহাকার বিশদভাবে তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে, এক ফোঁটা পানি ও সামান্য খড়ের জন্য গফুরের আকুতি, অনাহারক্লিষ্ট মহেশের কষ্ট এবং শেষ পর্যন্ত অসহায়ত্ব ও ক্ষোভের মুখে মহেশের মর্মান্তিক পরিণতি।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “মহেশ” গল্পের মধ্য দিয়ে কেবল এক দরিদ্র কৃষকের হাহাকার দেখাননি; বরং দেখিয়েছেন কীভাবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, জাতপাত ও ধর্মের ভণ্ডামি প্রান্তিক মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে। গফুরের সেই আর্তনাদ—“মহেশ আমার ছেলে, ও যে কথা কইতে পারে না”—আজও সমাজের অসংগতি ও নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। সাহিত্যের এমন ক্ল্যাসিক রচনা পাঠের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের চিন্তার পরিধি আরও শাণিত ও মানবিক হতে পারে।’
আলোচনায় উপস্থিত বন্ধুরা গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ, সমাজকাঠামো এবং সম্পর্কের মানবিক দিকগুলো নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পাঠ-অনুভূতি প্রকাশ করেন। প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনা ও ধর্মের অনুশাসনকে ব্যবহার করে দুর্বলকে কোণঠাসা করার যে চিত্র গল্পটিতে রয়েছে, তা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়েও প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, বন্ধু সাকিব আহমেদসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা।
পাঠচক্রের উদ্দেশ্য তুলে ধরে অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ জানান, তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, চিন্তা করার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে মানবিক সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের পাঠচক্রের আয়োজন করে আসছে।
সভাপতি, জাবি বন্ধুসভা