‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে’

কয়রা বন্ধুসভার উদ্যোগে মানববন্ধনছবি: বন্ধুসভা

‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ স্লোগানে খুলনার কয়রা উপজেলায় মানববন্ধন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। ২২ মে বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

কয়রা বন্ধুসভার সভাপতি রাসেল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক মিহির কান্তি মণ্ডল, কয়রা মদিনাবাদ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজুল হক, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, প্রথম আলোর কয়রা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ উদ্দীন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবনের সভাপতি নিরাপদ মুন্ডা, গ্রিন ভয়েস কয়রার সভাপতি অয়াসকুরনী রুম্মান প্রমুখ।

বক্তারা অবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষকে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। শিশু ও নারীর নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। তিনি দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা দেশে নারী ও শিশু নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক মিহির কুমার মণ্ডল বলেন, বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থল—সব জায়গাতেই নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় একাধিক আইন থাকলেও বাস্তবে তার কঠোর প্রয়োগ দেখা যায় না।

কয়রা মদিনাবাদ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, ধর্ষণ একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি। এ অপরাধ দমনে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আইনে কঠোর শাস্তির বিধান করলেই হবে না, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

গ্রিন ভয়েস কয়রার সভাপতি অয়াসকুরনী রুম্মান বলেন, নারী ও শিশুরা যে ধরনের অপরাধের শিকার হন, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কাগজে-কলমে আইন থাকলেই হবে না, তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।