মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানলে দেশ গড়া সম্ভব

মেহেরপুরে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’
ছবি: প্রথম আলো

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় খোঁজার লড়াই, শোষণ থেকে মুক্তির লড়াই এবং একটি মানচিত্র অর্জনের লড়াই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সাতই মার্চের ভাষণ—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ছিল। এরপর ৯ মাস যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি লাল-সবুজের পতাকা।

মেহেরপুরে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার উল হক। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণা করলে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা পিনপতন নীরবতায় শোনে সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধজয়ের গল্প।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা
ছবি: প্রথম আলো

গত ৩১ মার্চ দুপুর ১২টায় মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে মেহেরপুর বন্ধুসভা। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, তাৎপর্য ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চ মাসজুড়ে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।

মেহেরপুর বন্ধুসভার সদস্য ও কলেজের প্রভাষক নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল্লাহ আল আমিন, সহকারী অধ্যাপক রূপালী বিশ্বাস, ইকরামুল হাসান, প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, জহির আহমেদ, জান্নাতুল নাঈম, হুমায়ুন আহমেদ, মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি আবু সাঈদ প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা
ছবি: প্রথম আলো

বক্তারা বলেন, ‘একাত্তরের ৯ মাসের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা হারিয়েছি ৩০ লাখ প্রাণ। মা-বোনের সম্ভ্রম, বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ আর অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীন ভূখণ্ড। আমরা স্মরণ করি সাতজন বীরশ্রেষ্ঠকে, স্মরণ করি সেই নাম না–জানা কৃষাণ-কৃষাণীকে, যাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার জুগিয়েছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। ইতিহাস জানলেই কেবল সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মেহেরপুরের বিভিন্ন স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। সেরা ১১ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

প্রতিযোগিতায় মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শারিকা হোসেন প্রথম স্থান অধিকার করেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন জান্নাতুল মাওয়া। তৃতীয় হয়েছেন হুমায়রা আক্তার, মৌমিতা রহমান ও কানিজ ফাতিমা। চতুর্থ হয়েছেন মুবাশ্বিরা রহমান, ইশরাত জাহান, মোছা. মারিয়াম, মৃত্তিকা রহমান ও চামেলী খাতুন। পঞ্চম স্থান অর্জন করেন সুস্মিতা পাত্র।

পুরো আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মেহেরপুর বন্ধুসভার একঝাঁক প্রাণবন্ত সদস্য।