ভালোবাসা ও জীবনের নিরাপত্তার টানাপোড়েন ‘১৬/১৭ লাভ লেন’

নোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রছবি: বন্ধুসভা

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাসের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৬/১৭ লাভ লেন’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে নোবিপ্রবি বন্ধুসভা। ১৩ আগস্ট নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘১৬/১৭ লাভ লেন’ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। একটি নির্দিষ্ট বাড়ি ও তার বাসিন্দাদের জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত এই উপন্যাসে প্রেম, দাম্পত্য, অপ্রেম, আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানুষের অন্তর্গত টানাপোড়েন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে।

উপন্যাসের কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু ১৬/১৭ লাভ লেনের একটি বাড়ি। এই বাড়িকে ঘিরেই সিরাজ, তিশা ও নিখিলের সম্পর্কের জটিলতা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। এখানে প্রেমকে শুধু সুন্দর ও রোমান্টিক অনুভূতি হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং প্রেমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দ্বিধা, অনিশ্চয়তা, সামাজিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থকেও লেখক গভীরভাবে তুলে ধরেছেন।

অন্যতম প্রধান চরিত্র সিরাজ, পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বিবাহিত হয়েও তিনি কিশোরসুলভ আবেগে তিশার প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে তিশা সিরাজকে ভালোবাসলেও শেষ পর্যন্ত পারিবারিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা ও সংসারজীবনের বাস্তবতার কাছে নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে বাবার পছন্দের নিখিলকে বিয়ে করেন। নিখিলের চরিত্র ও উপস্থিতি তিশা-সিরাজের সম্পর্কের জটিলতাকে আরও তীব্র করে তোলে।

উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো মানুষের মনের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গল্প বলা। ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও মানুষ কেন কখনো ভালোবাসার মানুষকে বেছে নিতে পারে না? দাম্পত্যে থেকেও কেন মনে অপ্রাপ্তির জন্ম হয়? সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত ভালোবাসার মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে মানুষ কোনটিকে বেছে নেয়? এমন অনেক প্রশ্ন পাঠকের মনে উত্থাপন করে ‘১৬/১৭ লাভ লেন’।

হরিশংকর জলদাসের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজ, সাবলীল ভাষায় সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনকথা তুলে ধরা। এই উপন্যাসেও তাঁর ভাষা পাঠককে সহজেই গল্পের ভেতরে নিয়ে যায়। চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থান, সম্পর্কের সূক্ষ্ম পরিবর্তন এবং পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার চিত্রায়ণ কাহিনিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসীর বলেন, ‘বই শুধু আমাদের গল্প শোনায় না; বরং আমাদের ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং নিজের ভেতরের অজানা জগতকে চিনতে সাহায্য করে।’

সহসভাপতি, নোবিপ্রবি বন্ধুসভা