বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী উপন্যাস জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে ভৈরব বন্ধুসভা। ৭ মে সন্ধ্যায় প্রথম আলো ভৈরব অফিসে অনুষ্ঠিত এই পাঠের আসর ভৈরবসভার ২০৪তম পাঠচক্র।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধার সঞ্চালনায় শুরুতেই লেখক জর্জ অরওয়েল সম্পর্কে জানান সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস। মূল আলোচনা করেন দপ্তর সম্পাদক আফিফুল ইসলাম। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা সুমন মোল্লা, উপদেষ্টা জনি আলম, সভাপতি জান্নাতুল মিশু, বন্ধু মোজাম্মেল অনুপমসহ অন্যরা।
আসরে বইটির কাহিনি সংক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি এর গভীর রূপক অর্থগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। ১৯৪৫ সালে রুশ বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে লেখা হলেও, এটি যে আজও বিশ্বরাজনীতির এক জীবন্ত দলিল—তা নিয়ে সদস্যরা তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বইটির সেই কালজয়ী দর্শন—‘সব পশু সমান, তবে কেউ কেউ বেশি সমান’। এর রেশ ধরে বর্তমান সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হলেও ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ আজও আমাদের চারপাশের সমাজকে চিনতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সঠিক শিক্ষার অভাব এবং অন্ধ আনুগত্য কীভাবে একটি সুন্দর স্বপ্নকে ধ্বংস করতে পারে, তা এই বইটির পরতে পরতে ফুটে উঠেছে।
সভাপতি জান্নাতুল মিশু বলেন, ‘জর্জ অরওয়েল আমাদের প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন। “অ্যানিমেল ফার্ম” পড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার প্রকৃতি চেনা এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকা। সুস্থ সমাজ গড়তে হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু হেপী বেগম, ভুবন আহম্মেদ, অভীক, আরবী, মোশারফ রাব্বি, রামিম, শান্ত, তুহিন, ইমরানসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা