বাবাদের গল্প শোনালেন বন্ধুরা

বাবা দিবসের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুদের একাংশছবি: বন্ধুসভা

২১ জুন ছিল বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বব্যাপী বাবাদের নিয়ে এই বিশেষ দিনটি নানাভাবে পালিত হয়। বটবৃক্ষের ছায়ার মতো বাবা যেন এক মজবুত আশ্রয়স্থল। সেই মানুষদের নিয়ে প্রতিবছরের মতো সেদিন চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করেছে ‘বাবাদের গল্প শুনি’।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। বন্ধুরা তাঁদের বাবাদের নিয়ে স্মৃতিচারণা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন।

উপদেষ্টা জয়শ্রী দাশ তাঁর বাবা সম্পর্কে বলেন, ‘বন্ধুদের কাছ থেকে তাঁদের বাবাকে নিয়ে গল্প শোনা একধরনের ভালো লাগা কাজ করে। বাবা শব্দটিই এমন। বাবা কখনো নিজের কষ্টের কথা নিজের মুখে বলে না। আমি সব সময় বাবাকে চোখে চোখে রাখি। বাবার বয়স বেড়েছে, তাই নানান অসুস্থতাও তাঁকে ঘিরে ধরেছে। বাবার বুকে ব্যথা লাগছে কি না, কাশি আসছে কি না এসব কিছু। বাবাকে নিয়ে আমার অনেক যুদ্ধ। তিনি ক্যানসারের রোগী ছিলেন। তবে এখন অনেকটা সুস্থ। এখন মনে হয়, বাবা যেন আমার সন্তানতুল্য। তাঁর অসুস্থতার পর থেকে আমি এখন আর নেটওয়ার্কের বাইরে যাই না। তিনি বেঁচে আছেন, এটিই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’

উপদেষ্টা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘একটি পরিবারে বাবা অনেক কিছু। একজন বাবা জীবিত না থাকার চেয়ে অসুস্থ হয়ে বেঁচে থাকাটা অনেক বড় কিছু। আমার ৪০ বছর বয়সে এসে এই বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি। বাবা না থাকলে অনেক শূন্যতা বিরাজ করে। আমার বাবা পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় পরিবারের ঘানি নিজেই টেনে নিয়ে গেছেন। বাবা বেঁচে থাকতে ওনার জন্য কিছু করতে পারাটা অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। যখন দেখি আমার বাবার বয়সী বন্ধুরা এখনো বেঁচে আছেন, তখন তাঁদের মধ্যে যেন নিজের বাবাকে খুঁজে পাই। ২০২০ সালের কোভিডের সময় দেখেছি, অনেকে তাঁদের অসুস্থ বাবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার পর্যন্ত পায়নি। মা–বাবার সেবা করাটাও অনেক বড় বিষয়। আজকের এই বাবা দিবসে সব বাবারা যেন সুস্থ থাকে।’

সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘বাবার সঙ্গে আমার তেমন কোনো ছবি নেই। বাবার একটা আদর্শ আমি লালন করেছি—পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া ও কুশল বিনিময় করা। ছোটবেলা থেকেই বাবার এই বিষয়টা দেখে এসেছি। বাবাদের কাছে সাধারণত মেয়েরা বেশি আদরের হলেও, আমার বাবার কাছে আমি ছিলাম খুবই আদরের। আমার বিদেশে যাওয়ার সময় বাবা খুবই কান্না করেছিল, আর দেশে আসলেই আমাকে বিয়ে করিয়ে দিবে বলে বেড়াত। যদিও আমার বিয়ে দেখে যেতে পারেননি। ২০১৬ সালেই না–ফেরার দেশে চলে যান তিনি। আল্লাহ আমার বাবাকে বেহেশত নসিব করুক। এখন নিজে বাবা হওয়ার পরে বুঝতে পারছি, বাবাদের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমে না।’

বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কামরান চৌধুরী বলেন, ‘আমার জন্মের সময় বাবা কক্সবাজার ছিলেন। এক সপ্তাহ পর তিনি আমাকে দেখতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়াতে বিভিন্ন জেলায় তাঁকে চাকরি করতে হয়েছে। ছোটবেলায় বাবাকে দেখতাম বিভিন্ন অপারেশনে যেত। আমরা তখন খুব চিন্তিত থাকতাম। জনগণের সেবার কাছে বাবা এত ব্যস্ত থাকার পরেও যখন কাজ শেষে বাসায় ফিরতেন, তখন আমাদের দুই ভাই বোনকে খুব স্নেহ করতেন। তবে বাবার শাসনও ছিল কড়া। এই শাসনে খুব ভয় পেতাম। বড় হবার পর বুঝতে পারি বাবা আমাদের একজন ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করার জন্য এভাবে শাসন করতেন। ওনার সততা ও নৈতিকতা আমাদের খুবই অনুপ্রাণিত করে। বাবার ভালোবাসার কাছে আমরা চিরঋণী।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, দপ্তর সম্পাদক সাকিব জিশান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম ও বন্ধু তাফসিরুল ইসলাম। পৃথিবীর সব বাবা-মা সুস্থ ও ভালো থাকুক, বন্ধুদের এটাই প্রত্যাশা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা