‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের গল্প প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার মধ্যেও শিশু ও নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন, সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা আমাদের বিবেককে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়, ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের সংবাদ। একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা শুধু অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ আঘাত।’
শিশু ও নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং দোষীদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ভোলায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। ২২ মে বিকেলে জেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ভোলা বন্ধুসভা। বক্তারা বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে সমাজের সচেতন মানুষদের নীরব থাকার সুযোগ নেই। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।’
মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকেরা। সবার কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি—শিশু ও নারীর প্রতি সব ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের অবসান এবং অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। বক্তারা বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধকে আরও উৎসাহিত করে। যখন একজন অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়, তখন সমাজে আরও অনেক অপরাধীর জন্ম হয়।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘নারী ও শিশু সমাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সম্মিলিত দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় নির্যাতনের শিকার মানুষগুলো বিচার তো দূরের কথা, সামাজিক লজ্জা ও ভয়েই মুখ খুলতে পারে না। ফলে অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই নীরবতা ভাঙতেই প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিবাদ।’
সাধারণ সম্পাদক, ভোলা বন্ধুসভা