যখন বাক্স্বাধীনতা রুদ্ধ হয়, তখন নীরবতার ভেতরেই জমতে থাকে প্রতিবাদের আগুন। ভাষার মাসের সেই চেতনাকে ধারণ করে আহমেদ ছফা রচিত উপন্যাস ‘ওঙ্কার’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে রংপুর বন্ধুসভা। ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কারমাইকেল কলেজ মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠ আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি তৎকালীন আইয়ুব খানের শাসনামলকে কেন্দ্র করে রচিত। গল্পের নায়ক সুবিধাভোগী সুশীল শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে, যারা ক্ষমতার কাছ থেকে সুবিধা পায়। অন্যদিকে বোবা বউ চরিত্রটি প্রতিবাদী বা বিপ্লবী চেতনার প্রতীক। তার শারীরিক অক্ষমতা, কথা বলতে না পারা সামরিক শাসনের প্রতীকী রূপ। কিন্তু যেমন বোবা বউ শেষ পর্যন্ত নিজের স্বর পুনরুদ্ধার করে স্বরতন্ত্রী ছিঁড়ে ‘বাংলা’ উচ্চারণ করে, তেমনি বাঙালিও সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে রাজপথে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সেই প্রতিবাদী চেতনার ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ।
বন্ধু নৈঋত রয় বলেন, ‘উপন্যাসটি বিপ্লবের পাশাপাশি মানবিকতার বার্তাও দেয়। গল্পের ছেলে চরিত্রের মতো কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, মানুষের মনকে ভালোবাসা উচিত। মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। আর গল্পের মেয়ের চরিত্রের মতো কঠিন কাজ করতে না পারলেও চেষ্টা করার মানসিকতা সবার মধ্যে থাকা উচিত।’
বন্ধু সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘উপন্যাসে আহমেদ ছফা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটকে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও প্রতীকের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, আদর্শচ্যুতি এবং ব্যক্তিমানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। উপন্যাসটি মূলত একটি প্রতিবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে লেখক সময়ের অসংগতি ও অসামঞ্জস্যকে সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।’
পাঠচক্র শেষে বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে ইফতার করেন। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সোহেলী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দা ইফাত সামান্তা, সহসভাপতি মামুন হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বৈশাখী রানী ও হৃত্বিক রয়, দপ্তর সম্পাদক তাসফিয়া খন্দকার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক তাসনিমুল তাহজিব, বন্ধু সোহাগ দাস, পঙ্কজ কুমার, মাইমুনা আক্তার, ইসরাত জাহান ও সাইফ মাহফুজ।