বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথাবিরোধী, ঋজু ও স্পষ্টভাষী লেখক আহমদ ছফার কালজয়ী আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’। বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার গ্রন্থাশ্রমের কক্ষে সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ আসর বসে।
পাঠচক্রে মুখ্য আলোচক ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাসনিম সুলতানা। তিনি আহমদ ছফার নিজস্ব জীবনদর্শন, উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা এবং প্রেম ও বিরহের জটিল দ্বান্দ্বিকতা নিয়ে বিশদ বক্তব্য তুলে ধরেন।
তাসনিম সুলতানা বলেন, ‘আহমদ ছফার “অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী” কেবল একটি সাধারণ প্রেমের আখ্যান নয়; এটি মানুষের অবদমিত বাসনা, আত্মিক তীব্রতা ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের নির্মম দলিল। এখানে নারীকে একদিকে মানবী হিসেবে তাঁর জাগতিক রূপে দেখা হয়েছে, অন্যদিকে তাঁকে উন্নীত করা হয়েছে প্রার্থিত এক ঐশ্বরিক সত্তায়। এ দুই বিপরীত স্রোতের দ্বন্দ্বে লেখকের নিজস্ব সত্তার যে হাহাকার ও আত্মদহন প্রকাশ পেয়েছে, তা বাংলা সাহিত্যের ধারায় বিরল ও অসামান্য। ছফা তাঁর অনুভূতিকে কোনো কৃত্রিম আবরণে ঢাকেননি, বরং নিজের দুর্বলতা ও তীব্র ভালোবাসাকে সমান সাহসিকতায় পাঠকের সামনে উন্মোচন করেছেন।’
মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে উপস্থিত বন্ধুরা উপন্যাসের ভাষাভঙ্গি, তৎকালীন উত্তাল সামাজিক পটভূমি ও লেখকের আপসহীন মনোভাব নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। প্রেম কীভাবে মানুষের ভেতরকার সৃষ্টিশীলতাকে জাগ্রত করে এবং একই সঙ্গে এক পরম শূন্যতা ও দীর্ঘস্থায়ী নিঃসঙ্গতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, উপন্যাসের চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে সে কথা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা উল্লেখ করেন, সাহিত্যের প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে ছফা যেভাবে সম্পর্কের জটিলতা ও মানুষের মনোদৈহিক টানকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা যেকোনো সংবেদনশীল পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ, বন্ধু ছোঁয়া, দীপ, সাকিবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীরা।
অর্থ সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা