১৪৩২ বঙ্গাব্দের সমাপ্তি এবং ১৪৩৩ বর্ষকে বরণ করে নিতে ‘বিদায় বেলায় নতুনের আবাহন’ শিরোনামে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করেছে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। প্রাণবন্ত এই আয়োজনে বন্ধুসভার সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক উচ্ছ্বসিত ও আনন্দঘন পরিবেশ, যেখানে পুরোনো বছরের স্মৃতি এবং নতুন বছরের প্রত্যাশা একসূত্রে এসে মিলিত হয়।
১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই উৎসবের শুরুতেই সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধতা ছড়ান বন্ধু তুষার কবির। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। একে একে গান পরিবেশন করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিথি তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, বন্ধু অর্ক রয় ও শিপন। তবলায় ছিলেন বন্ধু রুদ্র দাশ। তাঁদের পরিবেশনায় বৈচিত্র্য, আবেগ ও প্রাণচাঞ্চল্যের অপূর্ব মেলবন্ধন অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
সংগীতের পাশাপাশি ছিল কবিতা আবৃত্তির এক মনোমুগ্ধকর পর্ব। বন্ধু লাবিব তাঁর আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেন। কথামালার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিদায়ী বছরের নানা অভিজ্ঞতা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও বন্ধুসভার কার্যক্রমের স্মৃতিচারণা করেন। পাশাপাশি তিনি নতুন বছরের জন্য আশাবাদ, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন।
পুরো আয়োজন সঞ্চালনা করেন সাজিয়া আফরিন। তাঁর সাবলীল, প্রাণবন্ত ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল করে তোলে। অনুষ্ঠানের বিশেষ দিক ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় সাজানো খাবার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, প্রচার সম্পাদক সাকিব জিশান, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আমেনা আক্তার, বন্ধু আশরাফুর রহমান, নুসাইব হাসান, তানজিনা আক্তারসহ অনেকেই।
শেষে সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিথি তালুকদারের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। তাঁর নৃত্যের ঝংকার যেন বিদায়ের বিষণ্নতা কাটিয়ে নতুনের আনন্দঘন বার্তা বয়ে আনে।
আয়োজনের সমন্বয়ক ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিথি তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা।