শীতার্ত রবি সম্প্রদায়ের পাশে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা

কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে রবি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ
ছবি: বন্ধুসভা

সামাজিক, মানবিক ও নাগরিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত দেশের রবি সম্প্রদায়। স্বল্প শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মৌলিক ও মানবিক অধিকার থেকেও উপেক্ষিত এই জনগোষ্ঠী। এমন পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের পানাহার বারুক এলাকার রবি সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রাম প্রতিদিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জুতা সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা সুনীল চন্দ্র দাস সারা দিন কাজ করেও মাত্র এক শ টাকার মতো উপার্জন করতে পারেন। বর্তমান সময়ে এক শ টাকা উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করা খুবই কঠিন। শুধু সুনীল চন্দ্র দাস নন, কালের বিবর্তনে পুরো রবি সম্প্রদায়ই আজ চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। কাজের সুযোগ কমে যাওয়া এবং আয়সংকটে তাঁদের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এমন বাস্তবতায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সেই কষ্ট লাঘবে রবি সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা। ১৬ জানুয়ারি দুপুরে এই জনগোষ্ঠীর অর্ধশতাধিক পরিবারের মধ্যে কম্বল উপহার দিয়েছেন বন্ধুরা।

কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে রবি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ।

কম্বল পেয়ে খুশি শিশু, নারী-পুরুষসহ বৃদ্ধরা। বন্ধুসভার বন্ধুরা প্রথমে রারুক সেতুর পাশে কিছু মানুষকে জড়ো করে কম্বল দেন। যাঁরা সেখানে আসেননি, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল দিয়ে আসেন। কর্মসূচিতে আর্থিকসহ সার্বিক সহযোগিতা করেন স্থানীয় খোঁজারগাঁও এলাকার বাসিন্দা বন্ধুসভার উপদেষ্টা মো. জাকারিয়া।

কম্বল পেয়ে স্থানীয় রতন রবি দাস জানান, তাঁরা খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটান। কাজ নেই, আয় নেই। শীতে অনেক কষ্ট হয়। কেউ তাঁদের খোঁজ নেয় না। বন্ধুসভার বন্ধুরা এসে কম্বল দিয়েছেন। এতে শীতে তাঁদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে।

কম্বল পেয়ে খুশি রুপচান রবি দাস বলেন, ‘শীতে এহন রাইতে ভালামতো ঘুমাইতে ফারি না। আজগ কম্বল ফায়া মনে অনেক শান্তি লাগতাছে। এইটা আমরার লাগে খুব দরকার আছিল।’

কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে রবি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ।

বন্ধুসভার উপদেষ্টা মো. জাকারিয়া বলেন, ‘রবি সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষ বাপ-দাদাদের পেশা জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন। তবে এই পেশায় কাজ করে এখন তাঁদের পক্ষে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো এখন আর কেউ ছেঁড়া জুতা সেলাই করে পায়ে দিতে চান না। বন্ধুসভা সব সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। এখানকার মানুষগুলোও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। শীতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বন্ধুসভাকে নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাঁদের মুখে হাসি দেখে খুবই ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা এভাবে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সিকান্দর মিয়া বলেন, বন্ধুসভার এমন মানবিক উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। তাদের এই সহায়তা এই মানুষগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরাবে।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রথম আলোর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি তাফসিলুল আজিজ, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি নাজমুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েশা হাবিবা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম ইশরাক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদিয়া খান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক তাহফিম বিন আজিজ।

সভাপতি, কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা