প্রেম, ঈর্ষা ও মানবমনের টানাপোড়েন ‘চোখের বালি’

ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

‘চোখের বালি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিক আকারে। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনি, যেখানে প্রেম, ঈর্ষা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক রীতিনীতির জটিল মানসিক টানাপোড়েনকে গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

৯ আগস্ট বিকেলে উপন্যাসটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। প্রথম আলো ময়মনসিংহ অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

বন্ধু তুরাবি তাবাসসুম উপন্যাসের কাহিনি, উপজীব্য এবং চরিত্র বিশ্লেষণমূলক আলোচনায় বলেন, ‘গল্পের মূল চরিত্র মহেন্দ্র, বিনোদিনী, আশালতা ও বিহারী। মহেন্দ্র স্বভাবত আত্মকেন্দ্রিক ও আবেগপ্রবণ যুবক। আশালতা সাধারণ, স্নিগ্ধ, নির্ভেজাল স্বভাবের মেয়ে; মহেন্দ্রর স্ত্রী। বিনোদিনী বুদ্ধিমতী, রূপসী, কিন্তু বিধবা। সমাজের সীমাবদ্ধতা ও ব্যক্তিগত অপমান তাকে অন্তর্মুখী ও মাঝেমধ্যে প্রতিহিংসাপরায়ণ করেছে। বিহারী মহেন্দ্রর বন্ধু। শান্ত, সংযত ও নীতিবান চরিত্র।’

বিনোদিনী প্রথমে মহেন্দ্রর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু পরে ভাগ্যের খেলায় আশালতার জীবনে অতিথি হয়ে আসে। ধীরে ধীরে আশা ও বিনোদিনীর মধ্যে একধরনের ‘চোখের বালি’, অর্থাৎ হিংসা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে, বিশেষ করে মহেন্দ্রকে কেন্দ্র করে। প্রেম, আকর্ষণ, অবিশ্বাস ও আত্মসম্মানবোধের টানাপোড়েনে গল্প এগোতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিনোদিনী সবাইকে ছেড়ে চলে যায়।

‘চোখের বালি’ কেবল একটি প্রেমকাহিনি নয় উল্লেখ করে সভাপতি মোহাম্মদ খালিদ হাসান বলেন, ‘এটি মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক শৃঙ্খল এবং আত্মসম্মানবোধের কাব্যিক বিশ্লেষণ।’

নতুন বন্ধু সাজিদ প্রথম দিনের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘পাঠচক্র জানার পরিধি বাড়ায়।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মোস্তাফিজুর রহমান ও সাদিকুল ইসলাম, বন্ধু মোহাম্মদ উজ্জল, অনিকসহ অন্য বন্ধুরা।

সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা