‘নষ্টনীড়’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে লেখক স্বামী-স্ত্রীর মানসিক দূরত্ব, দাম্পত্যজীবনের শূন্যতা এবং সম্পর্কের জটিলতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
কেন্দ্রীয় চরিত্র চারুলতা তার কর্মব্যস্ত স্বামীর সাহচর্য সহসা পায় না। অন্যদিকে স্বামীর ছোট ভাই অমলের ছেলেমানুষি চারুর মনে জায়গা করে নেয়। অমলকে সে ভালোবেসে ফেলে। রবিঠাকুর তাঁর অসাধারণ লেখনীতে চারুর ভালোবাসাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। অমলের লেখা যখন পত্রিকায় ছাপে, তখন সে লেখা হাজার-শতেক পাঠকের সঙ্গে চারুকেও ভাগাভাগি করে পড়তে হবে দেখে তীব্র ঈর্ষাবোধ দগ্ধ করে। চারুর এই ঈর্ষাবোধ ও তীব্র ভালোবাসা রবীন্দ্রনাথ ফুটিয়ে তুলেছেন অনন্যভাবে। লেখাটি অনবদ্য হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ, শতবর্ষ পরেও মানবমনের এই জটিলতা, আবেগের ওঠানামা, সমাজব্যবস্থার অসাম্যতা কিছুমাত্র বদলায়নি।
রবীন্দ্রনাথ স্থান, কাল, পাত্র জয় করেছেন অনুভূতির মোহময় লেখনীতে। গল্পটি ‘ভারতী’ পত্রিকায় বৈশাখ-অগ্রহায়ণ সংখ্যায় ১৯০১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। যা পরবর্তী সময়ে ‘গল্পগুচ্ছ’ সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২১ আগস্ট বিকেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘নষ্টনীড়’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। নগরীর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বন্ধুরা গল্পটির প্রেক্ষাপট, বিষয়বস্তু ও চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করেন।
বন্ধু জেরিন জাহরা বলেন, ‘চারুলতা নামের এক বুদ্ধিমতী ও সংবেদনশীল নারী, যার স্বামী সমাজ ও রাজনীতিতে ব্যস্ত। নিঃসঙ্গ চারুলতার সঙ্গে তার দেবরের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তা জটিল আবেগে পরিণত হয়। পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। চারুলতা বুঝতে পারে, সে আসলে কী হারিয়েছে। এটি নারীর একাকিত্ব, ভালোবাসা ও আত্মসচেতনতার এক অনন্য গল্প।’
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘যেমন গুরুতর আঘাতে স্নায়ু অবশ হয়ে যায় এবং প্রথমে বেদনা টের পাওয়া যায় না, সেই রূপ বিচ্ছেদের আরম্ভকালে অমলের অভাব চারু ভালো করে যেন উপলব্ধি করতে পারেনি। মূলত “নষ্টনীড়” ত্রয়ী সম্পর্কের জটিল প্রেমের গল্প।’
উপদেষ্টা মো. আবুল বাশার বলেন, ‘বন্ধুসভার সৃজনশীল কাজের মধ্যে অন্যতম আয়োজন হচ্ছে পাঠচক্রের আসর। পাঠচক্র আমাদের জানার, বলার এবং উপলব্ধি করার ক্ষমতা বাড়ায়।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আলমা আরিজ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তাওমান জাহান, বন্ধু মো. উজ্জল, সাজিদ উল্লাহ, মৃদুল আহমেদসহ অন্যরা।
সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা