‘বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ’ বই নিয়ে পাঠের আসর

পাঠচক্র শেষে জাবি বন্ধুসভার বন্ধুরাছবি: বন্ধুসভা

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ পাওয়া হলো, সঙ্গে বাক্‌স্বাধীনতা। শুরু হলো স্বাধীনতা রক্ষার এক নতুন সংগ্রাম। সংগ্রামের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাস জানার উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ’ বইটি নিয়ে পাঠের আসর করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ১৯ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ১০ নম্বর কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

বইটি মূলত অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের লেখা ‘বাংলাদেশ: আ লিগ্যাসি অব ব্লাড’–এর বাংলা অনুবাদ। এ বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষাৎকার তুলে ধরেছেন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস।

কিছু কিছু মানুষ আমাদের জাতি হিসেবে দিয়েছেন সম্মান, গৌরব ও আত্মমর্যাদা। তাঁদের কেউ ইতিহাসের পথ পেরোতে সাহায্য করেছেন আমাদের। সারা বিশ্বে কেউ ছড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের সুনাম। তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথ ছিল কঠিন, কিন্তু ছিলেন একাগ্র। একইভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। স্বাধীনতার আগে ও পরে মুজিব শব্দটি ছিল একটি জাদু। মুজিব একটি অলৌকিক নাম, যে জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেশের জনগণ তাঁকে বাংলার আপন নেতায় পরিণত করেছিল।

কিন্তু স্বাধীনতার পর তাঁর সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লোপ পেতে শুরু করে। দেশে এসে তিনি প্রশাসন তৈরিতে ব্যস্ত হন। সেই প্রশাসনে বিভিন্ন ক্ষমতালোভী চাটুকাররা জায়গা করে নেন। মুজিবনগর সরকারে শেখ মুজিবের জন্য প্রেসিডেন্ট পদ খালি রাখা হলেও তিনি তাজউদ্দিনকে সরিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী হন, যেহেতু তখন শাসনকার্য পরিচালনার ভার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছিল। প্রেসিডেন্ট পদে বসান অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে। ‘বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ’ বইয়ের ১৩টি অধ্যায়ে মুজিবের যাত্রা থেকে শুরু করে মুজিবকে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে জেলে হত্যা এবং জেনারেল জিয়া হত্যা পর্যন্ত ঘটনাগুলোর আলোচনা পাওয়া যায়।

চলতি বছরের ১২তম পাঠের আসরটি পরিচালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আছিয়া শান্তা। এ সময় সভাপতি সুমাইয়া জামান বইটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এত দিন বিভিন্ন কারণে আমরা হয়তো আমাদের দেশের ইতিহাস সঠিকভাবে জানতে পারিনি। এখন সবার উচিত, ভালোভাবে অতীত ঘটনাগুলো জেনে নেওয়া, যেন আমরা আগামীতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম পাঠচক্রে বন্ধুরা একে অপরের অনুভূতিও বিনিময় করেন। সবাই যেন আবার খুব দ্রুত গত কয়েক দিনের ঘটনাগুলোকে ধারণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন, সেই আশা ব্যক্ত করে আলোচনার ইতি টানা হয়।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৃদুল পাল, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কাউসার আনসারী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সৈয়দ সালমানসহ অন্যান্য বন্ধুরা।

প্রশিক্ষণ সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা