জুলেখা বেগম দীর্ঘদিন কোমর ও পিঠের ব্যথাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন। টাকার অভাবে ভালো কোনো চিকিৎসক দেখাতে পারছিলেন না। বন্ধুসভার বিনা মূল্যের মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে এসে তিনি বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। স্বামী মারা গেছে। বেটারা হামাক দেখে না। সাধ্য নাই ডাক্তার দেখাবার। টাকা ছাড়া ডাক্তার দেখানো যাবে শুনে এখানে আসছি। ডাক্তার ম্যাডাম খুব যত্ন করে দেখল। নওগাঁ থেকে আসা পোলা-ম্যায়াগুলা ধরে ধরে নিয়ে গেল। ওষুধ লিখে দিল।’
নওগাঁ বন্ধুসভার উদ্যোগে ১৬ মে অসচ্ছল রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের কসবা গ্রামের বাসিন্দা ও বন্ধুসভার বন্ধু নজরুল ইসলাম বাদশার বাড়ির সামনে এ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এতে কসবাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তিন শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ডিজিটাল ল্যাব ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক এস এম তাহা, বাংলাদেশ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ওসুয়াতুন সাবেরা দীনা ও নওগাঁ মৌসুমী চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শফিকুল আলম।
রোগীদের সমস্যা শুনে চিকিৎসাপত্র দেওয়া ছাড়াও ছিল রক্তের গ্রুপ, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নির্ণয়। এসব কাজে সহযোগিতা করেন সিনিয়র টেকনোলজিস্ট রায়হান, সহকারী টেকনিশিয়ান কাবিল হোসেন ও নার্সিং ইনষ্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন।
সেবা নিতে আসা কসবা গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হামার বয়স ৬০ বছর চলিচ্ছে। এত দিন রক্তের গ্রুপ কী, জ্যানতু না। অ্যাজকা এই ক্যাম্পে অ্যাসে জ্যানতে পারিনু হামার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। আবার ডায়াবেটিসও পরীক্ষা করিল। ডাক্তাররা হামাক পরামর্শ দিলু কীভাবে চলতে হবে। ক্যাম্পোত অ্যাসে খুব উপকার হলো। আল্লাহ এই ছেলেমেয়েদের ভালু করুক।’
চিকিৎসাসেবা শেষে নওগাঁ বন্ধুসভার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সানম সাব্বির সহযোগিতা করায় চিকিৎসক ও প্যাথলজিস্টদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ বন্ধুসভার সহসভাপতি এলমা খাতুন লোটাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তার, অর্থ সম্পাদক নাফিস আরা পপি, কার্যনির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলাম, ফেরদৌসী বেগমসহ অন্য বন্ধুরা।
সাধারণ সম্পাদক, নওগাঁ বন্ধুসভা