এতিম শিশুদের নিয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বৈশাখবরণ
রঙের ছোঁয়ায়, ঢোলের তালে আর নতুন আশার আলোয় বরণ করে নেওয়া হয় পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ মানে নতুন শুরু, নতুন স্বপ্ন আর পুরোনো ক্লান্তি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। সেই উপলক্ষে এতিম শিশুদের নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিয়েছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা।
১৪ এপ্রিল ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স চাইল্ড হোমে এক আনন্দঘন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বন্ধুসভার সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের মুখে হাসি ফোটান এবং নতুন বছরের আনন্দ একসঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন।
শুরু থেকেই পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। রঙিন সাজসজ্জা, ব্যানার, শিশুদের কৌতূহলী চোখ আর বন্ধুসভার বন্ধুদের আন্তরিক উপস্থিতিতে জায়গাটি যেন একটুকরো আনন্দভূমিতে পরিণত হয়। শিশুরা শুরু থেকেই বন্ধুদের ঘিরে ধরে, কথা বলতে চায়, হাত ধরে টানে, আবার কেউ কেউ লজ্জামিশ্রিত হাসিতে দূর থেকে সবকিছু দেখে। পুরো পরিবেশে একধরনের আপনত্বের আবহ তৈরি হয়।
সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল শিশুদের সঙ্গে বন্ধুদের আন্তরিক সময় কাটানো। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, দিনজুড়ে ছিল তাদের সঙ্গে গল্প করা, হাসাহাসি, খোঁজখবর নেওয়া এবং একে অপরকে জানা। বন্ধুসভার বন্ধুরা শিশুদের পাশে বসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সাধারণ সম্পাদক অনিক ভূষণ একজন শিশুকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার পড়াশোনা কেমন চলে, প্রিয় খেলা কি ও খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো চলছে কি না।’ আবার কেউ তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শোনেন। শিশুরাও খুব সহজভাবে তাদের মনের কথা শেয়ার করে। কেউ ডাক্তার হতে চায়, কেউ শিক্ষক, আবার কেউ চায় বড় হয়ে পরিবারকে সাহায্য করতে।
এর আগে শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শিশুরা রং-তুলির মাধ্যমে তাদের কল্পনার জগৎ ফুটিয়ে তোলে। কেউ আঁকে প্রকৃতি, কেউ নববর্ষের উৎসব, আবার কেউ নিজের স্বপ্নকে রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করে। বন্ধুরা পাশে থেকে তাদের উৎসাহ দেন, ছবি দেখে প্রশংসা করেন।
এরপর শুরু হয় খেলাধুলার পর্ব। বিস্কুটদৌড়, হাডুডু ও মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতায় শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। খেলার সময় শিশুদের হাসি, দৌড়ঝাঁপ, হাততালি আর একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া পুরো পরিবেশকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কেউ জিতলে সবাই আনন্দে উল্লাস করে, কেউ হারলেও তাকে সবাই উৎসাহ দেয়। এখানে প্রতিযোগিতার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে একসঙ্গে থাকার আনন্দ।
খেলার পর্ব শেষে শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআইএসএস চাইল্ড হোমের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও অনেকে।
শেষে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক পর্ব। এই পর্বের সূচনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা। তিনি নববর্ষ ঘিরে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে নতুন বছরের আশা, আলো, স্বপ্ন আর ভালোবাসার বার্তা, যা পুরো পরিবেশকে আবেগঘন করে তোলে।
সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ড্যাফোডিল বন্ধুসভার এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা না করলেই নয়।’ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর এই প্রচেষ্টাকে আরও বড় পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ম্যাগাজিন সম্পাদক রিফাতুল ইসলাম। সহসভাপতি ইশরাত হিমার কণ্ঠে গান পরিবেশনা পুরো পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে। কার্যনির্বাহী সদস্য মাহিয়া তাবাসসুমের নৃত্য পরিবেশনাও ছিল আকর্ষণীয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মুসাভভির সাকির, অর্থ সম্পাদক রিজভী আমিন, প্রচার সম্পাদক সুমন কাফিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক জহিরুল আলিফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ত্বোয়া-হা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈম, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক মুহাম্মদ সিয়াম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফারহান আনন্দ, কার্যনির্বাহী সদস্য নুসরাত অনন্যা ও মাহিয়া তাবাসসুমসহ অন্য বন্ধুরা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত শতাধিক শিশুর মধ্যে নতুন খাতা, বিস্কুট ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়। খেলাধুলা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা