‘আঁর মাইয়াগারে কোনো দিন বালা ওগ্গা ফরগ লই দিতাম হারি না। বেলাইল্লার মাইয়াগার ফরগ দেই আঁর মাইয়া কত দিন কাইনচে। এবার আন্নেগো উচিল্লায় ওগ্গা ফরগ হাইচে। আল্লাহ আন্নেগো হোলা–মাইয়ার বালা কইরব।’
২ মার্চ লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভার পক্ষ থেকে ঈদের নতুন পোশাক উপহার পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন এক বিধবা মা। আরেক অসহায় বাবা বলেন, ‘আঁর ওগ্গা হোলা আছে। হোলাগারে কোনো দিন ওগ্গা কোত্তা দিতাম হারি না কোনো ঈদে। আল্লাহ আন্নেগো বালা কইরব।’
ভেজা চোখ, কাঁপা কণ্ঠ, তবু মুখে তৃপ্তির হাসি। ঈদ সবার ঘরে সমান আনন্দ নিয়ে আসে না। কেউ নতুন জামার রঙে রঙিন হয়, আর কেউ সন্তানের কান্না চেপে রাখে অন্ধকার ঘরে। এই মানুষগুলোর মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভা।
‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা প্রতিবারের মতো এবারও ছুটে গেছেন মানুষের দোরগোড়ায়। কারও হাতে তুলে দিয়েছেন নতুন জামা, কারও হাতে তুলে দিয়েছেন নতুন ফ্রক; আর সঙ্গে দিয়েছে একটুকরা সম্মান, একটুকরা আনন্দ। যে শিশু এত দিন অন্যের জামা দেখে কেঁদেছে, আজ সে নিজের নতুন জামা বুকে জড়িয়ে হাসছে। যে বাবা এত দিন অসহায় ছিলেন, আজ তাঁর চোখে স্বস্তির জল।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভা