রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বোঝাপড়া’ কবিতার অন্তর্নিহিত জীবনদর্শন ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ১৬ জানুয়ারি বিকেলে প্রথম আলো নোয়াখালী অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরীর সঞ্চালনায় পাঠচক্রে কবিতার মূলভাব উপস্থাপন ও আলোচনায় অংশ নিয়ে বন্ধুরা কবিতার দার্শনিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন।
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় মানুষের অস্তিত্বের এক চরম সত্যকে উন্মোচন করেছেন। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত সংকটের এই সময়ে জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যে শিক্ষা এই কবিতায় আছে, তা তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।
সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদা রেশমি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই ছোটখাটো ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ি। কিন্তু কবি আমাদের শিখিয়েছেন “মরণ দশা হঠাৎ এলে আপন তরী ডুবিয়ে ফেলে, আমরা তখন রক্ষা পেতে অন্যের পানে তাকাই কেন?”—এই আত্মনির্ভরশীলতা ও বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার শক্তিই বন্ধুসভার বন্ধুদের অর্জন করতে হবে।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল আধ্যাত্মিকতা নয়, বরং যুক্তিবাদী জীবনবোধের কথা বলেছেন। মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করার মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃত মুক্তি খুঁজে পায়। পাঠচক্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো সাহিত্যের এই গভীর জীবনবোধকে ব্যক্তিজীবনে প্রয়োগ করা।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক জুনাইন কাউসার, কার্যনির্বাহী সদস্য অর্ঘ্য ভূঁইয়া, বন্ধু রিতু আক্তারসহ অনেকে।