দুর্গত মানুষের পাশে

শিবচরে এক মাস ধরে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী

বিজ্ঞাপন
default-image

পদ্মা নদীর ভাঙা-গড়ার জীবনে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সিরাজুল মাদবর (৬৫)। বিয়ের পরে ছেলেমেয়েরও পৃথক সংসার। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বন্দরখোলা ইউনিয়নের মাদবরেরকান্দি এলাকায় একটি টিনশেড ঘরে থাকতেন। মাসখানেক আগে পদ্মার ভাঙনে সেই ঘরটি বিলীন হলে নদীর পাড়েই উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন তিনি।

মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি এলাকার বেড়িবাঁধের ওপরে আশ্রয় নেওয়া ১০০টি পরিবারের মধ্যে গতকাল বুধবার বিকেলে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হয়। তাঁদেরই একজন সিরাজুল মাদবর। ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, ‘ঘরদুয়ার সবই গিলছে পদ্মায়। এই বুড়া বয়সে এইহানে ঠাঁই লইয়া কোনো কাম-কাইজ পাই নাই। খাওন জোগাইতেই কষ্ট।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ত্রাণ বিতরণ করেন মাদারীপুর প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। এ সময় বন্ধুসভার সভাপতি সোহেল রানা, উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোহসীন খানসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করেন। পরে কাঁঠালবাড়ি এলাকার বেড়িবাঁধ এলাকার একটি খোলা জায়গায় তাঁরা সবাইকে ডেকে এনে তাঁদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবানের প্যাকেট। এ ছাড়া মাদারীপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা চিকিৎসক অখিল সরকার কিছু খাওয়ার স্যালাইন, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সাধারণ ওষুধ বিতরণের জন্য দেন। ত্রাণ বিতরণের সময় স্বাস্থ্য সহকারী গৌতম হাজরার পরামর্শে বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে ওষুধ দেওয়া হয়।

ষাটোর্ধ্ব চান মিয়া ব্যাপারীর কাছে ভাঙন নতুন কিছু নয়। তবে এবার পরিস্থিতি অন্য রকম জানিয়ে বললেন, ‘ঘরবাড়ি ভাঙতে ভাঙতে আর কিছুই নাই। এহনে এইহানে আইয়া আশ্রয় লইছি। বদলা দেওয়া কামও এইহানে জুটতাছে না। সামনে ঈদ। কী খামু, কই যামু কিছুই জানি না। বড় আহালে আছি আমরা।’

শিবচর উপজেলায় এক মাস ধরে প্রায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী জীবন কাটাচ্ছে। পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৪৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। ভাঙনের শিকার এই পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে উঁচু জায়গায়। কেউ আশ্রয় নিয়েছে রাস্তা বা সেতুর ওপরে। আবার কেউ বাড়িঘর ভেঙে এনে আশ্রয় নিয়েছে অন্যের ভিটেয়। কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের ওপরে এ রকম দেড় শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা সবাই এসেছেন বন্দরখোলা ও চরজানাজাত ইউনিয়ন থেকে।

ত্রাণসামগ্রী পেয়ে জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ‘মেলা কষ্টে দিন কাটাইতাছি। খাওন তো দূরের কথা, আমাগো কথা কেউ মনে করে না। আমরা যে কীভাবে আইলাম তা–ও কেউ শোনে না, জানে না। এখানে এসে আশ্রয় নিছি। এরপরে আম্মেরাই প্রথম কিছু দিলেন।’

প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ৮০০টি পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য খরচ হয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন