৫ জুন বিকেল ৪টায় মেলার উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আমরা সবাই বইয়ের গুরুত্ব বুঝি। অনেকেই বলে, ই-বুকের কারণে নাকি কাগজের বইয়ের চাহিদা কমে গেছে। কথাটা পুরোপুরি সঠিক নয়।’ তিনি বলেন, বই লেখা হয় পাঠকের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য। সেটা নিবারণ করতে পারলে পাঠক বই পড়বে।

default-image

বিদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘বিদেশে আমি দেখেছি, ১০ মিনিটের জন্য কেউ ট্রেনে ভ্রমণ করলেও তাঁর হাতে বই থাকে। আর এখানে আমরা সুযোগ পেলেই ফেসবুকিং করি।’

অতুল সরকার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সেদিন শহরের একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানালেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত। অনেক ছেলে স্কুলে পড়েও বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সমাজপতিদের ভাবতে হবে। বই পাঠে অভ্যস্ত হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা জায়গা ও খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, বর্তমানের শিক্ষাব্যবস্থা হলো এ গ্রেডে পাস করার প্রতিযোগিতা, মুক্তচর্চার সুযোগ কম। এখনকার কিশোর-কিশোরীরা বইকে ভালোবাসে না বলেই বিপথগামী হচ্ছে। তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি বলেন, বই মানুষের জীবনসঙ্গী। এর বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল মিডিয়ার ই-বুকের কথা যতই বলা হোক, কাগজের বইয়ের জায়গা নিতে পারবে না।

default-image

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অসীম কুমার সাহা, ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ শিলা রানী মন্ডল। উপস্থাপনা করেন প্রথম আলোর ফরিদপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক প্রবীর কান্তি বালা।

মেলায় ফরিদপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কাজ করেন। প্রথমা প্রকাশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেনের নির্দেশনায় সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সভাপতি মানিক কুণ্ডু, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক জহির হোসেন, কার্যকরী সদস্য লক্ষ্মণ মন্ডল ও সুব্রত পাল।

লেখক: দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক, প্রথম আলো বন্ধুসভা, ফরিদপুর

কার্যক্রম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন