মুহূর্তের মধ্যেই জরুরি বৈঠক ডাকে প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেট। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন টিম গঠনে। কে সিলেটের কোন দিকের মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাবেন, সেটাই ছিল মূল লক্ষ্য। শুক্রবার বিকেলে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে সবাই তাঁদের নীড়ে ফিরে গেলেন। কেউ তখনো ভাবেননি যে বন্যার পানি তাঁদেরও ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

default-image

সন্ধ্যার দিকে যাঁর যাঁর বাসায় গিয়ে শুরু হলো ভার্চ্যুয়াল কথোপকথন। গ্রুপে কতশত আইডিয়া, মতামত। এরই মধ্যে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক। নিজ বাড়িতে থেকেও নেটওয়ার্কের কল্যাণে সবাই ছিলেন একই বৈঠকখানায়। কিন্তু বন্যার তোড় এত বেশি ছিল যে বিদ্যুতের মূল ঘাঁটি ডুবিয়ে দেয়। পুরো সিলেট ডুবে যায় অন্ধকারের সাগরে। চারদিকে লোডশেডিং ও নেটওয়ার্ক–বিচ্ছিন্ন জীবন। কেউ কারও কোনো খোঁজখবরও নিতে পারছেন না। কারও কারও মোবাইলে নেটওয়ার্ক অল্পস্বল্প কাজ করলেও বেশির ভাগই অচল হয়ে পড়ে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে চলা বৈঠকও বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার সকালটা আসে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। সকালের দিকে নেটওয়ার্ক কাজ করতে শুরু করে। খোঁজ মেলে কিছু বন্ধুর। জানতে পারি, তাঁদের বন্যার কবলে পড়ার কথা। কোমরসমান পানি উঠে যায় বন্ধু নাছিমের বাসায়। কারও বাড়ির দরজায় পানি এসে পড়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ঘরে ঢুকে যাবে। বন্ধু ইয়াহিয়া দোতলা বাসায় আটকে গেছেন বলে জানান। নিচতলা দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ নেই। কারও বাসার রাস্তায় পানি, কারও উঠানে পানি, বলতে গেলে প্রত্যেক বন্ধুর বাসায় পানি। এমন অবস্থায় নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের খেয়াল রাখার জন্য নির্দেশ দেন আমাদের উপদেষ্টা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

default-image

প্রথম দিন স্যাঁতসেঁতে অস্বস্তিকর জীবনের সঙ্গে সখ্য করে দ্বিতীয় দিন কিছু বন্ধু নেমে পড়েন কাজে। পানি বেশি থাকায় এবং নৌকা না পাওয়ায় শহরের মধ্যে দুর্গত মানুষের খুঁজে পাড়ি জমান অন্তর, নাঈম, মিহরাবসহ কয়েকজন বন্ধু। রাজবী, গায়ত্রী, সাবা, শাম্মী, দৃষ্টিসহ অনেকে বের হতে গিয়েও বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েন।

পরের দিন তাঁদের আটকায় কে? অদম্য শক্তি আর উচ্ছ্বাসে বের হয়ে কাজে নেমে যান। বন্ধুদের এমন আন্তরিকতা, মানবিকতা ও অসহায় মানুষের প্রতি মমত্ববোধের জন্য গর্বিত হই।

বন্যার কবল থেকে রেহাই পায়নি উঁচুতে/টিলায় বসবাস করা মানুষও। শহরের উঁচু রাস্তা পর্যন্ত ডুবতে বাধ্য হয়েছে এই বানের পানিতে। এত কিছুর মধ্যেও থেমে ছিলেন না কেউ৷ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন সিলেট বন্ধুসভার প্রত্যেক বন্ধু। তাঁরা আছেণ বলেই এত ভালো ও কঠিনতম কাজও সহজ মনে হয়।

লেখা: সভাপতি, প্রথম আলো বন্ধুসভা, সিলেট

কার্যক্রম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন