সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হন ফরমানউল্লাহ। শুরুতে তাঁকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর দায়িত্ব নিয়ে সেবা করার মতো কেউ ছিলেন না। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধু আবু হানিফ নিজ উদ্যোগে দায়িত্ব নেন ফরমানউল্লাহর। তাঁকে ওয়ার্ডে ভর্তি করানো, ওষুধ কিনে দেওয়া, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করাসহ নানা ধরনের পরিচর্যার কাজে রাত একটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন আবু হানিফ। আবু হানিফের মতো চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ১০ জন বন্ধু নিরলস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসহায় মানুষকে সেবা দেওয়ার কাজ করে গেছেন সেই রাতে। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আল সোহেলের নেতৃত্বে বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে অসহায় মানুষকে সেবা দেন বন্ধুরা। রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সহসভাপতি ইব্রাহীম তানভীরের নেতৃত্বে হাসপাতালে যোগ দেয় চট্টগ্রাম বন্ধুসভার আরও একটি দল।

বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে বা এককভাবে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার মোট ২২ জন বন্ধু সেবাদান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শনিবার রাত একটা থেকে শুরু করে সোমবার রাত আটটা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া, বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করা, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা, ইউরিন পরিষ্কার, রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়াসহ নানা ধরনের কাজ করেছেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধু মোহাম্মদ রাহাত আলী বলেন, ‘আমি সংবাদ শুনে আর থাকতে না পেরে রাত তিনটায় বাসা থেকে বের হয়ে যাই। প্রথমে সিএমএইচে যাই, সেখানে আমাকে ঢুকতে দেয়নি। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে আসি। এখানে এসে বেশ কয়েকজন অসহায় রোগীকে শনাক্ত করি, যাঁদের সত্যিকার অর্থেই সহযোগিতা দরকার। তাঁদের মধ্যে একজনের দায়িত্ব আমি নিই। যাঁকে দেখভাল থেকে শুরু করে নিজের টাকা দিয়ে ওষুধও কিনে দিয়েছি।’ বন্ধু সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পৌঁছে প্রথমে জরুরি বিভাগ থেকে বেশ কয়েকজনকে ৩৬ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে যাই। তাঁদের ওষুধ কিনে দিয়ে তাঁদের পাশে থেকে সেবা দিতে থাকি। রাঙামাটির পাহাড়ধসের পরে আবারও বড় পরিসরে এতগুলো মানুষকে সেবা দেওয়ার সুযোগ হলো। মানবসেবা করতে পেরে ভালো লাগছে খুব।’

নিজের জন্মদিনের প্রথম প্রহরে বাসায় কেক কাটা বাদ দিয়ে হাসপাতালে রক্ত দিতে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধু মিনহাজ উদ্দিন। এ ধরনের ছোট ছোট মানবিকতার গল্পে সেদিন ভরে উঠেছিল চারপাশ। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার যুগ্ম সম্পাদক ইরফাতুর রহমান বলেন, ‘শুরুতে গিয়ে এত মানুষের ভিড়ে কী করব, বুঝতে পারছিলাম না। পরে বার্ন ইউনিটের গেটে দাঁড়িয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে সহযোগিতা করি। যাঁরা বিভিন্ন খাবার বা ওষুধ নিয়ে আসছিলেন, সেগুলো গ্রহণ করে একটি জায়গায় জমা করি। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী দগ্ধ ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে বিলি করে দিই।’ বিভিন্ন ধাপে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইব্রাহীম তানভীর, সাঈদ আল সোহেল, শাওন রায়, নুরুজ্জামান খান, ইরফাতুর রহমান, সাকিব জিশান, আশরাফুল কাদের, মাহির রেজোয়ান, নুরুজ্জামান খান, সাইফুল ইসলাম, আবু হানিফ, ইশরাত জাহান, মোহাম্মদ জোবায়ের, মিনহাজ রাফি, রাহাত আলী, মিনহাজ উদ্দিন, রিমুল মিয়াজী, শিহাব জিশান, ফাহিম উদ্দিন, রাহিম মাহমুদ চৌধুরী, রব্বানী রবি ও বিথী আক্তার।

লেখক, সভাপতি, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা।

কার্যক্রম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন