বিজ্ঞাপন

প্রশ্নোত্তর পর্বে ইব্রাহিম আলি প্রশ্ন করেন, ‘আমার প্রায়ই অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে খারাপ লাগা কাজ করে। মাথায় চিন্তা আসে যে আমাকে দিয়ে আসলে কিছু সম্ভব হবে না। তখন চরম হতাশা চলে আসে। এ ক্ষেত্রে আমার কী করা উচিত?’

জবাবে নাজনীন সরকার বলেন, ‘আমাদের অতীত আমরা কখনো পরিবর্তন করতে পারি না বা ছেড়ে দিতে পারি না। অতীতে আমার জীবনে একটা খারাপ ঘটনা আছে, যেটা আমি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি, এটা কিন্তু নরমাল ঘটনা। কিন্তু যখন আপনি বর্তমানে বসে অতীতের কথা চিন্তা করছেন, সেটা অতীতে তো খারাপ করেছেই, বর্তমানেও তা আপনার খারাপ করছে। সাধারণত সফলতা বা ব্যর্থতার ধারণা আমরা আমাদের চারপাশ বা সমাজ থেকে নেওয়ার চেষ্টা করি। যে কারণে আমাদের মধ্যে এত হতাশা। অতীতে পড়ে না থেকে অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাটা জরুরি। অতীতকে যেহেতু পরিবর্তন করতে পারছেন না, তাই বর্তমান থেকে কীভাবে জীবনটাকে পরিবর্তন করতে পারেন—এ বিষয়ে ফোকাস করুন। সঙ্গে অতীতে হওয়া ঘটনাটাকে মেনে নিতে হবে আর বর্তমানকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

default-image

মাহমুদুল ইসলাম মারুফ প্রশ্ন করেন, ‘একাডেমিক পড়াশোনা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার ফলে একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আমি এখন কোনো কিছু নিয়ে পড়াশোনা করতে বসলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারি না। সহজেই কোনো বিষয় মাথায় ঢুকাতে পারি না। একটা জিনিস কয়েকবার করে পড়তে হচ্ছে। আমার মনে হয়, পড়াশোনায় ফোকাস করতে না পারায় এই সমস্যাটা হচ্ছে। আমি কীভাবে কাজের প্রতি ও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে পারি জানাবেন।’

এ বিষয়ে নাজনীন সরকার বলেন, ‘ইয়োগা বা মেডিটেশন আমাদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং আপনি যখন প্রতিদিন দু–তিনবার ইয়োগা বা মেডিটেশন করবেন, তাহলে সেটা আপনার মনোযোগ বাড়াবে। সেটা যেকোনো কাজ থেকে শুরু করে, পড়াশোনা, ঘুম, খাওয়াদাওয়া, চলাফেরা, কথা শোনা বা কাউকে কথা বলা—সবকিছুতেই আপনার মনোযোগ বাড়াবে। পড়ার টেবিলে বসে মেডিটেশন করে তারপর পড়া শুরু করতে পারেন। এতে একবারেই হয়তোবা দু–তিন ঘণ্টা টানা পড়ায় মনোযোগী হতে পারবেন না; তবে ধীরে ধীরে মনোযোগী হওয়ার সময় বাড়বে। সঙ্গে যখন যেটা করবেন, সে সময় শুধু সেটার ওপরই ফোকাসটা রাখবেন।’

default-image

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আলোচক নাজনীন সরকার উপস্থিত সবাইকে আমাদের আশপাশে থাকা নিকটজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন যারা মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে, তাদের না–বলা কথাগুলো শোনার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি তাসনিম মুসাররাত জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ দেন।

কার্যক্রম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন