বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এরপরেই আমাদের সম্মুখে চলে আসেন সংবাদ উপস্থাপক ও বিতার্কিক জাফর সাদিক। তিনি বলেন বিতর্ক নিয়ে। তার বক্তব্যে উঠে আসে বিতার্কিক হতে হলে বই পড়তে হবে, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, শুদ্ধ উচ্চারণ শিখতে হবে ও কে কোন কোন পয়েন্ট আলোচনা করল, সে বিষয়ে যুক্তি খণ্ডন জানতে হবে। এ ছাড়া জাফর সাদিক বলেন, বিতর্ক মানেই কারও সঙ্গে তর্কের দ্বন্দ্ব নয়। বিতর্ক হচ্ছে যুক্তি-তর্কের খেলা। বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তির আয়নায় নিজের ভাবনাগুলোকে প্রতিফলিত করা যায়। এর ফলে বাড়ে চিন্তার পরিধি, জ্ঞান আর প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান। একটি বিষয়কে বৃত্তের বাইরে গিয়ে কীভাবে আরও কতভাবে ভাবা যায়, তা একজন বিতার্কিকের চেয়ে ভালো কেউ বলতে পারবে না। তিনি প্রচলিত সংসদীয় বিতর্ক, সনাতনী বিতর্ক, বারোয়ারি বিতর্ক—এসব বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

বিতর্ক নিয়ে কর্মশালার পর নাশতা বিরতি শেষে আবার শুরু হয় কর্মশালা। এবারের কর্মশালার বিষয় ক্যারিয়ার। এ বিষয়ে টিভি উপস্থাপক ও বিসিএস কৃষি কর্মকর্তা ফাল্গুনী মজুমদার আলোচনা করেন। ক্যারিয়ারকে আমরা কীভাবে দেখছি? আমাদের কেন এ বিষয়ে ভাবা উচিত? এসব বিষয় বন্ধুদের মধ্যে সুনিপুণভাবে কয়েকটি লাইনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি আমাদের ক্যারিয়ার গড়তে লেখালেখির দক্ষতা, বই পড়া, সংগঠন ও নেতৃত্ব বিষয়ে সময় দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী ও মনোযোগী হতে বলেন।

default-image

আমাদের মধ্যে উপস্থাপনা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি টপিক তুলে ধরেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপস্থাপক মৌসুমী মৌ। তিনি উপস্থাপকের মূল কাজ টু ইনফর্ম, টু এডুকেট ও টু এন্টারটেইন সম্পর্কে আলোচনা করেন। পাশাপাশি শুদ্ধ উচ্চারণ, সাবলীল বাচনভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস—এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বলেন।

মৌসুমী মৌ একজন উপস্থাপকের উপস্থাপনার পূর্বে ও চলাকালীন কী কাজ তা তুলে ধরেন। ভাইভাতে বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পূর্বে সেই প্রতিষ্ঠানের লোগোর কালার দেখে পোশাক বাছাই করা। ম্যাচিং ড্রেস পরিধান করা অর্থাৎ যথাযথ পোশাক বাছাইয়ের কথা বলেন। বলেন, মেয়েদের ক্ষেত্রে মেকআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া নন্দনতত্ত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, পরিমিতি বোধ, সেন্স অব হিউমার, সংক্ষিপ্ততা, নিরপেক্ষ আলোচনা, কথার ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা, মাইক্রোফোন ধরার নিয়ম ইত্যাদি বিষয়গুলো অনেক সুন্দরভাবে মৌসুমী মৌ আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

default-image

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও লেখক পিয়াস মজিদ লেখালেখি বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। তাঁর কথা বলার ধরনটা অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল। তিনি বলেন, যারা আমরা মুখে কথা বলতে ততটা অভ্যস্ত নই, তারাই লেখালেখিতে অনেক ভালো করি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক চৈতী চক্রবর্তী শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সমাজে চলতে চলিত ভাষায় কথা বলতে হবে, তা হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়, চাকরির ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জায়গায়।

default-image

মধ্যাহ্নবিরতিতে বন্ধুদের একেকজনের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকি। এক আনন্দপুরের যাত্রায় ছিলাম বলে মনে হয়। খানিক বিশ্রাম শেষে শুরু হয় সংগঠন ও নেতৃত্ব বিষয়ে আলোচনা। আলোচনা করেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুমিত আল রশিদ। তিনি বলেন, নেতা হতে হলে হতে হবে সুশিক্ষিত ও নিঃস্বার্থ, থাকতে হবে তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস। তিনি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘সংগঠন ও বাঙালি’ বই পড়ার কথা বলেন। যেটি পড়লে আমরা সংগঠন ও নেতৃত্ব বিষয়ে আরও সঠিকভাবে জানতে পারব।

এভাবে শেষ হয় কর্মশালা। এরপর বন্ধুসভার বন্ধুদের অংশগ্রহণে শুরু হয় নৃত্য, গান, নাটিকা, আবৃত্তি। সবশেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে বন্ধুদের ফটোসেশনের মাধ্যমে একই ফ্রেমে যুক্ত হয়ে ও অভিজ্ঞানপত্র হাতে নিয়ে একে একে সবাই বিদায় নেন।

সাধারণ সম্পাদক, ঝালকাঠি বন্ধুসভা

কার্যক্রম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন