default-image

‘আসুন পড়ি’—এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভার দুই দিনের জাতীয় সমাবেশ। গতকাল শুক্রবার সমাবেশের প্রথম দিনে বন্ধুসভার সদস্যরা নিজেদের গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশকে সুন্দর করে গড়ার শপথ নেন। নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা করেন। সমাবেশ থেকে বন্ধুরা পরবর্তী দুই বছরের কাজের দিকনির্দেশনা নিয়ে ফিরবেন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মাঠে হচ্ছে এবারের প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় বন্ধু সমাবেশ। ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের সমাবেশে দেশের ১২৫টি বন্ধুসভার প্রায় ২ হাজার বন্ধু অংশ নিচ্ছেন।

প্রথম আলোর পাঠক সংগঠন বন্ধুসভা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালের ১১ নভেম্বর। সারা দেশে বন্ধুসভার শাখা ১৪৫টি। প্রথম আলোর প্রায় সব সামাজিক কর্মসূচিতে বন্ধুসভার সদস্যরা অংশ নেন। দেশে কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে বন্ধুরা দ্রুত দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান। প্রথম আলো বন্ধুসভা দুই বছর পরপর আয়োজন করে জাতীয় বন্ধু সমাবেশের। ২০১০ সালে শুরু হয় বন্ধু সমাবেশের। এবার পঞ্চমবারের মতো হচ্ছে সমাবেশ।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধন হয় বন্ধু সমাবেশের। শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা আনিসুল হক বলেন, বন্ধুসভা বাংলাদেশকে আলোকিত করতে যাত্রা শুরু করেছিল। বন্ধুসভার বন্ধুরা বই পড়ে, সংস্কৃতি চর্চা করে, মাদকবিরোধী আন্দোলন করে, দুর্যোগে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়।

বন্ধুদের উদ্দেশে আনিসুল হক বলেন, এবারের সমাবেশ থেকে ‘আসুন, কাগজ পড়ি’ এই দীক্ষা নিয়ে ফিরব। অনলাইনে বই, পত্রিকা পড়তে পারি। এখন থেকে অনলাইনে নয়, গ্যাজেটে নয়; কাগজের বই, ছাপা পত্রিকা পড়তে হবে। ভালো বই পড়তে হবে। তিনি বন্ধুসভার সদস্যদের মাদককে না বলিয়ে শপথ পাঠ করান।

বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন বলেন, ‘আমরা আলোকিত হব। বাংলাদেশকে আলোকিত করব। বছরটি মুজিব জন্মশতবর্ষ। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাব।’

উদ্বোধনের পর ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার বন্ধুরা উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন। বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাশেদুল হাসান গত দুই বছরে বন্ধুসভার কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এরপর জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ ২০২০-২১ ঘোষণা করেন আনিসুল হক।

বন্ধুসভার নতুন জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হয়েছেন মুমিত আল রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুন্নাহার মৌসুমি। এ কমিটি আগামী দুই বছর বন্ধুসভার দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে সাত সদস্যের উপদেষ্টা পর্ষদ ঘোষণা করা হয়। উপদেষ্টা পর্ষদে রয়েছেন মোহিত কামাল, আনিসুল হক, মুনির হাসান, আহমেদ হেলাল, জান্নাতুল বাকের, মাসরুর আরেফিন ও সাইদুজ্জামান রওশন।

জাতীয় পর্ষদের নতুন সভাপতি মুমিত আল রশীদ বলেন, ‘সব বন্ধুকে নিয়ে আলোকিত মানুষ হতে চাই। ভালো মানুষ হতে চাই। এ লক্ষ্যে আগামী দুই বছর নতুন কমিটি কাজ করবে।’

সাধারণ সম্পাদক কামরুন্নাহার বলেন, এটি অনেক বড় দায়িত্ব। আগের কমিটি ভালো কাজ করেছে। নতুন কমিটি আরও ভালো নতুন কাজ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবে। এ জন্য আগের কমিটির এবং উপদেষ্টা পরিষদের সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

উদ্বোধন পর্ব শেষে বন্ধু সমাবেশে প্রশ্নোত্তরসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রথম আলো বন্ধুসভা কী ভূমিকা রাখতে পারে, শিশুশ্রমিকদের পড়ালেখা করানোর ক্ষেত্রে বন্ধুসভার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, এমন অনেক বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। 

দুপুরের বিরতির পর বিভিন্ন বন্ধুসভার সদস্যদের অংশগ্রহণে  সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। এর মধ্যেই মঞ্চে আসেন শিল্পী তপন চৌধুরী। গান শোনানোর ফাঁকে তিনি বলেন, ‘যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো। আমরাও প্রথম আলোর সঙ্গে আছি।’ এরপর একে একে মঞ্চে আসেন শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, কনা ও ইমরান।

বিকেল থেকে শুরু হয় বিভিন্ন বন্ধুসভারবন্ধুদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি, মূকাভিনয়। মাঝেমধ্যে দেখানো হয় প্রথম আলোর তৈরি বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র। বন্ধুরা সকাল থেকেই মেতে ছিলেন আনন্দোৎসবে। কেউ নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন, কেউবা পুরোনো বন্ধুদের পেয়ে মেতে ছিলেন স্মৃতিচারণায়।

বন্ধু সমাবেশে সহযোগিতা করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, সিটি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, এক্সিম ব্যাংক, এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড, বিকাশ, ড্যানিশ-শিমলা টি ও ক্যামব্রিয়ান কলেজ। সম্প্রচার সহযোগী নাগরিক টেলিভিশন। চিকিৎসাসেবা সহযোগী ফরাজী হাসপাতাল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন