default-image


ঈদ প্রতিবছরই আসে জীবনে। ছোটোবেলার ঈদগুলো অনেক বেশি রঙিন ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু কেমন যেন বিবর্ণ হতে থাকে। তারপরও ঈদের দিনগুলোর গুরুত্ব আমার কাছে একটু অন্য রকম। কারণ, এ ধরনের দিনগুলোকে উপলক্ষ করেই পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব সবাই একত্র হওয়ার সুযোগ পাই।
দক্ষিণবঙ্গের পিরোজপুর জেলার সন্তান আমি। কিন্তু পড়ালেখার জন্য থাকতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গের রাজশাহীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির জন্য ৮ আগস্ট সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে হল ত্যাগ করতে হয়েছে এবং খুলনা-বাগেরহাট হয়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে অবশেষে জন্মভূমি স্বরূপকাঠি পৌঁছাতে পেরেছি ঈদুল আজহার মাত্র দুই দিন আগে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাতে বৃষ্টি হয়। সকালে ঈদগাহে নামাজ আদায় করি। অতঃপর গরু জবাই করা হয় এবং আমি ও আমার চাচাতো ভাই মাংস বণ্টনের কাজে নিয়োজিত হই। পাড়া-প্রতিবেশী, অসহায়-দুস্থ এবং বিভিন্ন গ্রামে অবস্থান করা আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে মাংস বণ্টন করে দিই। বণ্টনের কাজ সম্পন্ন হলে দিন শেষে আমরা মিয়ারহাট বন্দর থেকে বিখ্যাত গৌরনদীর দই খেয়েছিলাম।
আমার জন্য এবারের ঈদের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, অনেক পুরোনো বন্ধুর দেখা পাওয়া, যাদের সঙ্গে অনেক বছর পর দেখা হয়েছিল। বন্ধুরা মিলে সন্ধ্যা নদীর তীরে অনেক চমৎকার আড্ডা দিয়েছি।
আমার ঈদের কাহিনি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের মতো শেষ হয়েও হইল না শেষ। কারণ, ঢাকায় অবস্থান করা বড় ভাইয়া-আপু এবং সাদাফ-সাফওয়াত (ভাতিজা) ও নিহাদ-নিহারিকাদের (ভাগনে-ভাগনি) অনেক মিস করছিলাম। তাই অনেক ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের পরদিনই ছোটবোনসহ মা-বাবাকে নিয়ে লঞ্চে করে ঢাকায় রওনা দিই। হালকা ঝড় এবং প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে নদীতে অনেক ঢেউ ছিল। বিশেষ করে চাঁদপুরের কাছে পদ্মা-মেঘনার মোহনার রূপ ভয়ংকর অবস্থায় ছিল। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছে যাই। এবার পরিবারের সবাই একত্র হতে পারায় ঈদের আনন্দ এখনো আমার মধ্যে বিরাজমান।
সিদ্ধার্থ সজল

প্রথম আলো বন্ধুসভা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন