default-image


পৃথিবীতে যতগুলো হাসি আমাকে প্রাণ জুগিয়েছে
সবটাই আমাদের মায়ের কৃত্রিম বা অকৃত্রিম হাসি,
কখনো সংগত কারণে হেসেছেন
কখনো শুধু আমাদের জন্য,
উত্তপ্ত মরুভূমির বুকে তৃষ্ণার্ত গলায় এক গ্লাস ঠান্ডা শরবতের মতো সে হাসি,
অথচ তার হাসির কারণগুলো কখনোই খুঁজে পাইনি।
কান্নার যথেষ্ট কারণ থাকার পরও কাঁদতে পারতেন না,
তার কৈফিয়ত নেওয়ার লোকের অভাব ছিল না।
আমি কখনোই আমার মাকে নিজের জন্য অঝোরে কাঁদতে দেখিনি।
সমাজ-সভ্যতা তাকে এক বন্দী কয়েদির মতো জীবন দান করেছে,
আর ঘরের চৌকাঠের ভেতর থেকে আমাদের এক বিশাল পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন,
বাবা-দাদারা এই বন্দিশালার কর্তা,
তাদের রক্তচক্ষু আর উত্থিত তর্জনী আমাদের দিকনির্দেশক।
আমরা অজ্ঞাবহ প্রজার মতো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতাম,
আমাদের মা-ও তার বাইরে নয়।
সবকিছুর ভেতর আমাদের সুখ-দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু আমাদের মা।
মায়ের স্নেহ-আদরে আমরা একেক করে ঘুমিয়ে যেতাম, জেগে থাকতেন মা।
গভীর রাতে জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে কী আরজি করতেন
আমরা কখনোই খবর নিতাম না।
মাঝদিঘির পদ্ম ফুলের মতো দূর থেকে শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করেছি,
কখনোই ভেতরের খোঁজ রাখিনি।
অথচ আমাদের ভেতর-বাইরের সবকিছু কত সহজেই বুঝে নিতেন।
আমরা আমাদের মায়ের বুক চুষে চুষে বলীয়ান হয়েছি মাকড়সার মতো,
আর আমাদের মা চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন আরও ছোট একটি বন্দিশালার মতো ঘরে।
এখনো তার স্নেহ-ভালোবাসা জেগে আছে, আমরা বেঁচে আছি।
অথচ আমাদের কোনো অনুশোচনা নেই।

আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0